মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ব্যারেল চিমনি দিয়ে ইটভাটা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ইটকাটা শুরু করেছে ভাটা মালিকরা। ফলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। গত বছর ব্যারেল চিমনির ইটভাটা চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণার পরও কয়েকটি ভাটার মালিক ব্যারেল চিমনির ভাটা প্রস্তুত করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারি, টুঙ্গি, কলাইডাঙ্গা, বলিয়ারপুর গ্রামে ব্যারেল চিমনির ইটভাটা প্রস্তুতসহ ইট কাটার কাজ চলছে।
ইটভাটার মালিকরা সাংবাদিকদের বলেন, এ বছরের মতো ব্যারেল চিমনি ভাটার অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। আগামী বছরে তারা ফিক্সড চিমনি তৈরি করবেন। যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কাছে এ ধরনের কোনো আবেদন করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি বলেন, ‘ব্যারেল চিমনি ভাটা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। তারা জোর করেই এই ভাটাগুলো তৈরি করছেন। এ ব্যাপারে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা চাই। দ্রুত ঐ ইটভাটাগুলো বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামে অবৈধ ব্যারেল চিমনির ইটভাটায় শিশু শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয়েছে। স্বল্প খরচের সুযোগ নিয়ে এসকল ভাটা মালিকরা কোমলমতি শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টেংরামারি গ্রামে একটি ব্যারেল চিমনির ইটভাটায় তিন স্কুল ছাত্রকে দিয়ে ইট সাজানোর কাজ করানো হচ্ছে। এদের মধ্যে আরিফ, সজিব ও সাফিন নামের তিন প্রাইমারি স্কুল ছাত্র এ কাজ করছে। আরিফ প্রথম শ্রেণি এবং সজিব ও সাফিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
তারা জানায়, স্কুলে যাওয়ার আগে ভোর বেলা থেকে ভাটায় ইট সাজানোর কাজ করে। তিন চার ঘণ্টা কাজ করে। তারা পারিশ্রমিক হিসেবে পায় ১০ থেকে ১৫ টাকা প্রতি জন। ইটভাটা মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, ওরা মিষ্টি খাওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছায় এই কাজ করে।
