হাওরে এখনো পানি বোরো চাষ ব্যাহত

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪১

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হাওরে এখনো পানি জমে থাকায় বোরো চাষ শুরু করা যাচ্ছে না। হাওর সংলগ্ন প্রায় সব কয়টি নদীর পানির উচ্চতা এখনো হাওরের তলদেশের অনেক ওপরে। এ কারণে হাওরের পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, বালাগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরে কৃষকরা এখনো বীজতলাও তৈরি করতে পারছে না কৃষক। ফলে এবার বোরো ধান উঠতে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সময়মতো আবাদ করা না গেলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বোরো চাষাবাদ হয়ে থাকে। এখানের কৃষকরা বলেছেন, চাষাবাদ বিলম্বিত হলে ধান পাকার মৌসুমে বন্যায় ফসল তলিয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানির উচ্চতা ছিল ৪ দশমিক ৩০ মিটার। সম্প্রতি বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় পানির উচ্চতা বেড়ে হয় ৫ দশমিক ৫ মিটার। তাই নদীতে পানি থাকায় হাওরের পানি নামছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার বৃহত্তর সিলেটে ৪ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ হেক্টরে বোরো চাষ করা হবে। সিলেটে ৮০ হাজার ৫০, মৌলভীবাজারে ৫৩ হাজার ও হবিগঞ্জে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ করা হবে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, এবার সিলেটে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৪৫০ হেক্টর। কিন্তু মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৫৪ হেক্টরে বীজতলা তৈরি হয়। বীজতলা তৈরির সর্বশেষ সময় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সফরউদ্দিন জানান, ‘গত বছর পহেলা নভেম্বর থেকে সুনামগঞ্জে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু এবার নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় কোথাও বীজতলা তৈরি করতে পারেনি কৃষকরা। এতে আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়’।