ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এমন অবস্থা থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত অষ্টম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের শেষ দিন প্যানেল আলোচক ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এসব কথা বলেন।
সম্মেলনের শেষ দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সাতটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের অংশগ্রহণকারীরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমর চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা।
ব্যাংক খাতের অস্থিরতা নিরসন সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে সঞ্চালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে ব্যাংকগুলো নানা খেলা খেলছে। অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংককে ‘পদ্মা’ নামে নতুন অবয়বে চালু করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে অবসায়ন করা হয়েছে। আরো বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক যে তথ্য প্রকাশ করে তার থেকে অনেক বেশি খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতে রয়েছে। আমরা আশা করব, সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে। নইলে আট শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কেননা ব্যাংক খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্য একটি গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনাকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পুঁজিবাজারে লাভবান হচ্ছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের কোম্পানিগুলো। আমরা দেখেছি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ৬১ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি লাভবান হচ্ছে, যেখানে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৫৬ শতাংশ লাভবান হচ্ছে। এটা একটি আশ্চর্যজনক চিত্র। আমি মনে করি পুঁজিবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আরো বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা দরকার।
বিআইবিএমর পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী বলেন, ঋণ ফেরত না দিয়ে পার পাওয়া যাবে এমনটা ভেবে অনেকেই ব্যাংকে যায়। আবার ব্যাংকও দেখে একটি পার্টিকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিলে পরিচালন ব্যয় অনেক কমে যাবে। চাহিদা এবং সরবরাহ উভয় দিকের মনোভাব এমন। অথচ এই ৫ হাজার কোটি টাকা ৫০০ উদ্যোক্তাকে ঋণ দিলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হতো।
ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম) এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরির সভাপতিত্বে ‘টেকসই ব্যাংকিং ও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা’ শীর্ষক আরো একটি আলোচনা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। বিআইবিএমর মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান।
