হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আইন পাশের পক্ষে আনা বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি এই আইন পাশ করেছেন। বিলে ট্রাম্প সই করার পর হংকংয়ে আন্দোলনকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তারা হাজারে হাজারে শহরের বিভিন্ন চত্ত্বরে জড়ো হয়ে আনন্দ সমাবেশ করে। তবে হংকং কর্তৃপক্ষ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই আইনটি পরিস্থিতি সহজ করার ক্ষেত্রে সহায়তা তো করেইনি, বরং সেখানকার মানুষের কাছে ভুল বার্তা পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে, চীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। হংকংয়ের আন্দোলন ইস্যুতে যেনো যুক্তরাষ্ট্র নাক না গলায় সে বিষয়ে আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে রেখেছিলো চীন। গতকালও বেইজিং বলেছে, এর পরিণাম ভালো হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, হংকং ইস্যুতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইচ্ছেমতো কর্মকাণ্ড’ অব্যাহত তাকে তাহলে ‘কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। এছাড়া চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি ইউচেং এদিন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন দূত টেরি ব্রানস্টাডকে তলব করেন। তার কাছে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাখা জানতে চাওয়া হয়।
জানা গেছে, মার্কিন নতুন এই আইন অনুযায়ী, চীনের অন্যান্য এলাকা থেকে হংকং যেন আলাদা স্বায়ত্বশাসন উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হংকংয়ের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক আইনের বার্ষিক একটি পর্যালোচনা করা হবে। মার্কিন কংগ্রেসে এই বিলটির এত ব্যাপক সমর্থন ছিল যে, ট্রাম্প যদি ঐ প্রস্তাবের বিরোধিতাও করতেন, তাহলেও এটি আইন হিসেবে পাশ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পাশাপাশি আরেকটি বিলও পাশ করেছেন। এতে মিছিল নিয়ন্ত্রণে হংকংয়ের পুলিশের ব্যবহার করা টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গানের মত অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুনে হংকংয়ের বিক্ষোভের শুরুর দিকে এই প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হয় এবং গত মাসে বিশাল ব্যবধানে কংগ্রেস এটিকে অনুমোদন দেয়। আইনে বলা আছে, হংকং চীনের অংশ হলেও তাদের স্বতন্ত্র আইনি ও অর্থনৈতিক নিয়মাবলী আছে। বার্ষিক পর্যালোচনায় যাচাই করা হবে যে হংকংয়ের আইনকে খর্ব করে চীন সেখানকার বেসামরিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন ক্ষুন্ন করছে কি না। হংকং যেন তাদের বিশেষ বাণিজ্য মর্যাদা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে যথেষ্ট পরিমাণ স্বায়ত্বশাসন উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হংকংয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। -বিবিসি
