ডিও ও স্লিপ বেচাকেনার কারণে খাতুনগঞ্জে পণ্যের দাম বাড়ছে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩২

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডিও এবং স্লিপের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, পামঅয়েল, সয়াবিন, চিনি, ডাল ও মসলা জাতীয় পণ্য ডিওর মাধ্যমে বেচাকেনা হয়ে থাকে। খাতুনগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবত্ ডিও ব্যবসার প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে স্লিপ বিক্রি। এই স্লিপে ২০/২৫ দিনের মেয়াদে পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে। আর ডিওর মাধ্যমে ১ বছর আগের পণ্যও কেনা থাকে। আবার দফায় দফায় হাতবদল হচ্ছে বিক্রীত পণ্যের ডিও। এক ব্যবসায়ী একাধিক ডিও কিনে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পণ্যের বাজার মূল্য বৃদ্ধি করছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ডিও ও স্লিপের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনায় খাতুনগঞ্জে এর আগে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছে। ব্যাবসায়িক প্রতারণার কারণে মাঝখানে ডিও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন গোপনে চলার পর এখন আবার তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পণ্যের বাজারে কারসাজি করে মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

পাইকারি বাজারে এলাচির দাম প্রতি কেজিতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩২০০ টাকা দরে। অথচ বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। স্লিপ প্রক্রিয়ায় পণ্য বেচাকেনায় বাজারে কারসাজি চলছে। জানা যায়, খাতুনগঞ্জে সাত/আট জন এলাচির আমদানিকারক রয়েছে। তারাই বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে যে পরিমাণ এলাচি মজুত রয়েছে তাতে আরো কয়েক মাস চলবে। স্লিপের মাধ্যমে এলাচি বিক্রি হচ্ছে। এই স্লিপ আবার হাতবদল হচ্ছে। ভারত ও গুয়াতেমালা থেকে এলাচি আমদানি হয়ে থাকে। দেশে বছরে প্রায় ৩ হাজার টন এলাচির চাহিদা রয়েছে। এবি ট্রেডিং-এর মালিক অমর দাশ ইত্তেফাককে বলেন, গত সেপ্টেম্বরের পরে দেশে এলাচি আসেনি। ভারতে প্রতি কেজির দাম               ৩ হাজার টাকার বেশি। আগামী ফেব্রুয়ারির আগে নতুন মাল আসবে না। তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমাণ মাল আছে তার চেয়ে বেশি স্লিপ বেচাকেনা হয়েছে। স্লিপ হাতবদলের কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের স্লিপ ব্যবসায় অতীতে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে গেছে। এটা বন্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

 খাতুনগঞ্জে সোনা মিয়া মার্কেট ভোজ্যতেলের প্রধান পাইকারি বাজার। তবে ব্রোকার ও ডিও ব্যবসায়ীদের সারাদিন পদচারণায় বাজার সরব থাকে। এখানের তেলের কোনো মজুত নেই। তেল পড়ে রয়েছে মিল অথবা গুদামে। চেক ও স্লিপের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের বেচাকেনা চলে। গত কিছুদিন যাবত্ দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে পামঅয়েল ও সয়াবিনের দাম। সংশ্লিষ্টদের দাবি—তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। তার পরও তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ডিও ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। জানা যায়, তেলের ব্রোকার রয়েছে ৭০/৮০ জন। আর পাইকারি বিক্রেতা রয়েছে ১০/১২ জন। তাদের ইশারায় তেলের পাইকারি বাজারে উত্থান-পতন ঘটছে। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাও রয়েছেন যারা বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে সরব থাকেন। জানা যায়, ১৭০০/১৮০০ টাকার পামঅয়েল গত কিছুদিনে বেড়ে ২৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর সয়াবিনের দাম বেড়েছে মণে প্রায় ২০০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে পাইকারি বিক্রেতা আলমগীর পারভেজ ইত্তেফাককে বলেন, পামঅয়েলের দাম ওঠানামা করছে। গত রবিবার প্রতিমণ ২৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরের দিন ১০০ টাকা দাম কমলেও আজ আবার ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ১৫ দিন আগে ৫৩০ ডলারে বুকিং হয়েছে। এখন বেড়ে ৬৭০ থেকে ৬৯০ ডলারে বুকিং দিতে হচ্ছে। কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুপাতে তেল সরবরাহ দিচ্ছে না।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বাড়তি দামে যেসব পামঅয়েল বেচাকেনা হচ্ছে তা কয়েক মাস আগে আমদানি করা। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অনেক আগে চেকের মাধ্যমে তেল কিনে রেখেছে। এখন বাজারে তেল সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।