বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত পাশাপাশি অবস্থিত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এই গৌরবময় উত্তরাধিকারকে ধরে রাখতে দুই দেশের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন নতুন অধ্যায়ে উপনীত হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পারস্পরিক সুসম্পর্কের কারণে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা বৃত্তিসহ ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ট্রেডে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু রয়েছে। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১-কে সামনে রেখে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমিউনিটি উন্নয়ন, আইসিটি, জীবিকা উন্নয়ন, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুকল্যাণে ভারত সরকারের বিভিন্ন অনুদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রংপুর চেম্বার প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে বর্ধিতাংশ পঞ্চম তলার একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধনকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভারতীয় হাইকমিশনের অনুদানে স্থাপিত সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার ল্যাব ও লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটী, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, রংপুর চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন, পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ, চেম্বারের সাবেক কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ, স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। উদ্বোধনী শেষে আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
এছাড়া সন্ধ্যায় রংপুর চেম্বার বোর্ড রুমে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমে বাড়ছে। ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে ভারত সরকারের ১৯৩ মিলিয়ন ডলার সহায়তায় আগামী চার বছরে বাংলাদেশে ১২টি হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ শেষ হবে। যেখানে ভারত এবং বাংলাদেশের সমন্বয়ে ৩০ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ আইটি জনশক্তি হিসেবে তৈরি করা হবে। তিনি বাংলাদেশি পণ্যের ভারতে রপ্তানি বাড়াতে বিটুবি মিটিং ও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিরাজমান সমস্যাসমূহ নিরসনে পর্যায়ক্রমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে মর্মে উপস্থিত চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং পরিচালকবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং রংপুরের আমদানি-রপ্তানিকারকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
