অপহৃতকে নিয়ে প্রতারণা, হাতিয়ে নিল টাকা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:০৪

নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে অপহৃত এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে (৪২) উদ্ধার এবং তার জরুরি চিকিৎসার কথা বলে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার রাতে ফটিকছড়ির ভুজপুরের হেঁয়াকোতে এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে। 

গত ২২ নভেম্বর বন্ধু বাবুল সিকদারসহ অপহৃত হন হেলাল উদ্দিন। এরপর তাদের স্বজনদের কাছে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করে। অপহরণের একদিন পর বাবুল মুক্তি পেলেও হেলালকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে অপহরণকারীরা। বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকের অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

এরপর সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে একটি মোবাইল থেকে এ প্রতিনিধিকে কল করে নিজেকে ফেনীর মহিপালের হাইওয়ে থানার এসআই মাসুদ বলে পরিচয় দেওয়া হয়। ঐ ব্যক্তি বলেন, ‘হেঁয়াকো থেকে অপহৃত হেলাল উদ্দিনকে অজ্ঞান অবস্থায় থানার পুলিশ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টে অপহৃতর ছবি থেকে তারা হেলাল উদ্দিনকে শনাক্ত করে।’ 

খবরটি তার স্বজনদের পৌঁছে দিতে অনুরোধ করা হয়। কথিত এসআই মাসুদের মোবাইল নম্বর ও নামসহ খবরটি হেলালের স্বজনদের জানানো হলে তারা ঐ মোবাইল ফোনে কথা বলে রাতেই ফেনীর মহিপালের হাইওয়ে থানার উদ্দেশে রওনা হন।  

থানায় গিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে হেলালের স্বজনরা জানতে পারেন, মাসুদ নামে কোন অফিসার থানায় নেই এবং হেলাল নামে কাউকে তারা উদ্ধার করেনি। এ অবস্থায় কথিত মাসুদের নম্বরে কল দেওয়া হলে মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। 

আরো পড়ুন: ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার তিন পুলিশ!

হেলালের বন্ধু এনায়েত হাসেন বলেন, ফেনী যাওয়ার পথে ঐ প্রতারক তাদের নম্বরে কল দিয়ে জানায়, হেলালের অবস্থা ভালো নয়, তার চিকিৎসার জন্য টাকা লাগবে। একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে কথিত মাসুদ। এর প্রেক্ষিতে তারা ৯ হাজার টাকা পাঠায় ঐ বিকাশ নম্বরে।  

এদিকে, অপহরণের ৭ দিন পরও হেলালের কোন সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রীসহ স্বজনরা দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। এ অবস্থায় পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণায় ঘটনায় তারা আরও ভেঙ্গে পড়েন।  

হেলালের স্বজনরা জানান, ঢাকার বাসাবোর উত্তর মুগদাপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার বাবুল সিকদার ও এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন গত ২০ নভেম্বর ভুজপুরের হেঁয়াকো বাজারে একটি বোর্ডিংয়ে উঠেন। তারা দুজন খাগড়াছড়ি বেড়ানো শেষে ওখানে যান। ২২ নভেম্বর হেঁয়াকো বাজার থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দুটি মোটরসাইকেলে করে দুজনকে দুই স্থানে নিয়ে যায়। ঐ দিন অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে অপহৃতদের পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। 

ফোন পেয়ে হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী ঝর্ণা ও বন্ধু এনায়েত পরদিন অর্থাৎ ২৩ নভেম্বর ভোর বেলায় হেঁয়াকো এসে  অপহরণকারীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য তারা ৪টি বিকাশ নম্বর দেয়। কিন্তু টাকার পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষির এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা ফোনের সুইচ বন্ধ করে রাখে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর অপহৃত হেলালের স্ত্রী ও তার বন্ধু ভুজপুর থানায় গিয়ে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। ঐ দিন রাতে অপহরণকারীরা বাবুল সিকদারকে ছেড়ে দেয়।            

ইত্তেফাক/জেডএইচ