সার্ফিং নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্রের মুক্তি আজ

নারীর এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে ‘ন ডরাই’

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৮

পেছনে সমুদ্রের বিশালতা, ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে— এটা খুবই পরিচিত একটি চিত্র। কিন্তু বিয়ের চিরায়ত লাল বেনারসি, তাতে সোনালি-রূপালির ঘন নকশা, গা ভরা গহনায় সজ্জিত টুকটুকে বৌকে সার্ফার বোড হাতে ক’জন দেখেন? ‘ন ডরাই’ সিনেমার এমন পোস্টারই চমকে দেয় সবাইকে। তখন থেকেই মূলত এই সিনেমা নিয়ে এত আলোচনা। এরপর একে একে টিজার, ৩টি গান প্রকাশ হয়েছে। সেগুলোও বেশ প্রশংসা পেয়েছে।

তবে সিনেমাটি কতটুকু ভালো হয়েছে, তা দর্শকরা দেখতে পারবেন আজ থেকে। দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’।

সিনেমার পরিচালক তানিম রহমান অংশু বলেন, ‘ছবিটি হলো স্বপ্ন জয়ের, নারী মুক্তির গল্প। সামাজিক অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। তাই ছবির নাম ন ডরাই।’

সিনেমা দেখার আগেই অনেকেই বুঝতে পেরেছেন এটি গতানুগতিক ধারার বাইরের সিনেমা। সিনেপ্লেক্স আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ভিন্নধর্মী সিনেমা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছে তারা। এটাই প্রথম দর্শন বলে জানিয়েছেন, স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন: বাঁচার আকুতি শিশু প্রভার

কক্সবাজারের এক তরুণ নারী সার্ফারের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ন ডরাই’। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেহরা বিনতে কামাল। তিনি বলেন, ‘এই সিনেমার সবকিছুই চ্যালেঞ্জিং ছিল। উত্তরঙ্গের মেয়ে হয়ে চাঁটগাঁইয়ার মতো কঠিন ভাষা শেখা, সার্ফিং করা ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় কথা, এটা আমার প্রথম সিনেমা। নারী নির্ভর সিনেমা হওয়ায় এটা আরো বেশি স্পেশাল আমার জন্য।’

সিনেমার প্রায় ৯০ শতাংশ দৃশ্যধারণ করা হয়েছে কক্সবাজারে। সিনেমায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তা সবাই যেন বুঝতে পারেন সেভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান প্রযোজক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ছবিটির অধিকাংশ ভাষা চট্টগ্রামের। তবে সেই ভাষা সবাই বুঝতে পারবেন। এছাড়া ইংরেজি সাবটাইটেল আছে। ন ডরাই একটা গ্লোবাল সিনেমা। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে ছবিটি পাঠাতে চাই আমরা।’

ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন দেবের ‘বুনোহাঁস’ ও ‘পিংক’ সিনেমার চিত্রনাট্যকার কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত। ছবিটিতে আরো অভিনয় করেছেন সাঈদ বাবু, শরীফুল রাজসহ অনেকে।

ইত্তেফাক/এসএইচএম