বেদে জীবনে পরিবর্তন আনছে সৌরবিদ্যুত্

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা

বংশ পরম্পরায় বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের পেশা সাপ ধরা, সাপ খেলা দেখানো এবং নানা তাবিজ-কবজ ও কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করা। তবে সময়ের স্রোতে বেদেরা পালটে ফেলছেন তাদের জীবনযাত্রা। নৌকার ভাসমান যাযাবর জীবন ছেড়ে এখন উঠে এসেছেন ডাঙায়। আদি পেশার কারণে ভবঘুরে জীবনযাপন করলেও এখন লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাকার মাথা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাসরত বেদে সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় এই পরিবর্তনের চিত্র দেখা যায়।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলিথিনে মোড়ানো ছোটো ছোটো ঝুপড়ি ঘরে এখন সৌরবিদ্যুতের আলো জ্বলছে। প্রতিটি অস্থায়ী ঘরের ওপরে ও পাশে লাগানো হয়েছে সোলার প্ল্যান্ট। এখন সৌরবিদ্যুতের কল্যাণে আলো জ্বলছে তাদের ঘরে। তাদের হাতে হাতে মুঠোফোন। সেই মুঠোফোন এখন সৌরবিদ্যুত্ দিয়েই চার্জ দেওয়া হয়। মেমরি কার্ড দিয়ে চলে ছোটো আকারের টেলিভিশন। এই আলোতে তাদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করছে।

শাহাআলী নামের এক বেদে বলেন, ‘অনেকে এখন বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করছে। সাপ কেনা-বেচা ও সাপ খেলার ব্যবসা আগের মতো চলে না। ছেলেমেয়েরাও আর এ পেশায় আসতে চায় না। তারা পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়।’ আরেক বেদে আদম আলী বলেন, ‘আগে রাতের অন্ধকারে আমাদের জীবন চলতো কিন্তু এখন সৌরবিদ্যুতের আলো আছে।’

বেদে সরদার নুনু মিয়া বলেন, ‘আমরা বছরের ১০ মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াই আর দুই মাস ঢাকার সাভারে থাকি। যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থায়ী বসবাস করি তখন রাতে কেরোসিনের বাতিই ভরসা ছিল। এখন রাতে সৌরবিদ্যুতের বাতি জ্বলে। এখান থেকে মোবাইলে চার্জ দিতে পারি। মেমরি কার্ড দিয়ে টিভিতে ভিডিও দেখতে পারি।’