সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা পূর্ণ করলো প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর। সাফল্যের সেই উদ্্যাপনে গতকাল শুক্রবার ১৪তম বর্ষপূর্তিতে আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। সন্ধ্যায় শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘প্রাণসখা’ শীর্ষক গীতিনৃত্যনাট্য এবং বিভিন্ন ধারার নজরুল সংগীত পরিবেশনায় সাজানো ছিল অনুষ্ঠান। এছাড়াও পরিবেশিত হয় কবিতার দোলায়িত ছন্দোময় শিল্পিত আবৃত্তি। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ব আইটিআইয়ের সাম্মানিক সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন বহ্নিশিখার সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, সার্বিকভাবে বিভিন্ন সূচকে দেশের অনেক উন্নতি হচ্ছে। এই উন্নতির উলটোপিঠেই আবার অনেক ক্ষেত্রে মানবিকতার অবনতি ঘটেছে। নানাভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে হিংসাত্মক মনোভাব ও সাম্প্রদায়িকতা। সেই অমানবিকতাকে রুখতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উপস্থাপিত হয় লোক-সংস্কৃতি আশ্রিত গীতিনৃত্যনাট্য প্রাণসখা। উঠে আসে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহের দৃশ্যকল্প। গ্রামীণ জীবনের এক যুগল তরুণ-তরুণীর ভালোবাসার সূত্র ধরে বিস্তৃত হয় প্রযোজনাটি। সাহিদা রহমান সুরভীর নৃত্য পরিচালনায় পরিবেশনাটির সংগীত পরিকল্পনায় ছিলেন আবিদা রহমান সেতু।
নানা ধারায় প্রবহমান কাজী নজরুল ইসলামের লেখা গানগুলো। ভক্তিমূলক গান, প্রণয়গীতি, দেশাত্মবোধক সংগীত, রাগপ্রধান, গণসংগীত কিংবা গজল—এমন দশটি ধারার নজরুল সংগীতের কয়েকটি ধারা পরিবেশিত হয় এ অনুষ্ঠানে। নজরুলের বিভিন্ন ধারার গানগুলো পরিবেশন করেন বহ্নিশিখার শিল্পীরা। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন আবিদা রহমান সেতু।
গীতিনৃত্যনাট্য ও সংগীতের সমন্বিত এ আয়োজনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহফুজা আক্তার সীমা। বহ্নিশিখার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এ অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন উর্মি হালদার, সাহিদা রহমান সুরভী, সুনায়না সিদ্দিকী, নওশীন বৃষ্টি, অরুনিমা ভৌমিক, নীলিমা শাজাহান, শ্রাবণী পাল, শিমুল সাহা, আসিফ ইকবাল, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার শীল, জাহিদুল ইসলাম, সিদরাতুল মুনতাহা, রাহুল রায় ও আবিদা রহমান সেতু।
