৫০ বছর পূর্তিতে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুনের উত্সব

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

পুরাতনের হাত ধরে যাত্রা শুরু হলো নতুনের। মঞ্চনাটক সবসময় নতুনদের হাত ধরে এগিয়ে গেছে। সেই লক্ষ্যে নতুনদের তুলে ধরতেই নিজেদের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় আয়োজন করেছে নতুন নাট্য নির্দেশকদের নির্দেশনায় সাতটি নতুন নাটক নিয়ে প্রদর্শনী। আর প্রথম দিনেই তরুণ নাট্য নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার নির্দেশিত নাটকে অভিনয় করেছেন স্বনামধন্য অভিনেতা সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ও অপি করিম। এ উত্সবে স্থান পাওয়া সাতটি নাটকেরই প্রথম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সামনের উন্মুক্ত স্থানজুড়ে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের পুরোনো সব নাটকের পোস্টার। একেকটি যুগান্তকারী সব নাটক সেসব ‘নুরলদীনের সারাজীবন’, দেওয়ান গাজীর কিসসা, গ্যালিলিও—এমনি কত সব নাম। আর ভেতরে চলছে নাগরিক                 নাট্য সম্প্রদায়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নাট্য উত্সবের উদ্বোধন।

‘আয় নাটকের অঙ্গনে’ এ স্লোগানে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন হলো নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘নতুনের উত্সব’ শীর্ষক নাট্য উত্সব। এ উত্সবের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চার পথিকৃত্ নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়। ২০১৮ সালে এ দলটি উদ্?যাপন করেছে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর এবং দর্শনীর বিনিময়ের নাট্যচর্চার ৪৫ বছর। ১৯৭৩ সালে বাদল সরকারের লেখা ‘বাকী ইতিহাস’ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চা শুরু করে নাট্য দলটি।

প্রধান অতিথি হিসেবে নাট্য উত্সবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন নাগরিকের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্সবের আহ্বায়ক অভিনেত্রী সারা যাকের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে প্রদীপ প্রজ্ব্বালন করেন এ প্রজন্মের প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী বন্যা মির্জা, সামিনা লুফা নিত্রা, তনিমা হামিদ, আইরিন পারভীন লোপা, হূদি হক ও সাধনা আহমেদ। মঞ্চে নারী নাট্যকর্মীদের অবদান তুলে ধরতেই তাদের দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়।

কে এম খালিদ সংস্কৃতিচর্চায় পৃষ্ঠপোষকতাকে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতিচর্চার পৃষ্ঠপোষকতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সারাদেশেই সংস্কৃতিচর্চায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম দিন মঞ্চস্থ হয় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন প্রযোজনা ‘কালো জলের কাব্য’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিসের’ ভাবানুবাদে করা নাটকে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। আজ শনিবার মঞ্চস্থ হবে শামীম সাগর নির্দেশিত সুনামগঞ্জের বন্ধন থিয়েটার ও প্রসেনিয়াম থিয়েটার যৌথ নির্মাণ ‘রাধারমণ’। ১ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে রতন সিদ্দিকী রচিত ও হূদি হক নির্দেশিত নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাটক ‘আকাশে ফুইটেছে ফুল—লেটো কাহন’। ২ ডিসেম্বর  প্রদর্শিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও সাইদুর রহমান লিপন নির্দেশিত নাটক ‘অরূপ রতন’। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাসের নাট্যরূপে কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমনের নির্দেশনায় ৩ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে নাটগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘খোয়াবনামা’। আফ্রিকান গল্প অবলম্বনে শুভাশিস সিনহার নির্দেশনায় ৪ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘ও মনপাহিয়া’। সমাপনী দিন ৫ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অভিনীত নাটক ‘লটারি’। মোস্তাফিজ শাহীন নির্দেশিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রযোজনাটিতে উপদেষ্টার ভূমিকা রেখেছেন সারা যাকের। ৫ ডিসেম্বর উত্সবের সমাপনী অনু্ষ্ঠানে চার জ্যেষ্ঠ নাট্যশিল্পীকে সম্মাননা জানানো হবে। এই চার নাট্যব্যক্তিত্ব হলেন—ফেরদৌসী মজুমদার, জ্যোত্স্না বিশ্বাস, লাকী ইনাম ও শিমূল ইউসুফ।