বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিতে সম্প্রতি বিদ্রোহ করা নেতারা গতকাল শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী পালটা দশম কংগ্রেস শুরু করেছেন যশোরে। ‘ওয়ার্কার্স পার্টির মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত পালটা এই সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট কয়েক জন বাম নেতা আওয়ামী লীগ-বিএনপি তথা দ্বিদলীয় ‘দুর্বৃত্তায়নের’ বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষ বিকল্প নেতৃত্ব চান। তারা বুর্জোয়া, লেজুড়বৃত্তি ও দক্ষিণপন্থি সুবিধাবাদী রাজনীতি পরিহারমুক্ত একটি প্ল্যাটফরম চান। তাই আমাদের সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এটা আমাদের দায়িত্ব। জাতি ও দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব, তা না হলে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হবে।’
গত ২ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পার্টির দশম কংগ্রেস বর্জনকারী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, একটি সত্যিকারের বিপ্লবী পার্টি গড়ে তুলতে, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম তথা জাতীয় স্বার্থে তেল-গ্যাস-বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষার সংগ্রামকে বেগবান করতে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম এগিয়ে নিতে, জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কর্মসূচিভিত্তিক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলার পাশাপাশি বহুধাবিভক্ত কমিউনিস্ট আন্দোলন পুনর্গঠনের মাধ্যমে এক পতাকার নিচে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সম্মেলন। এই লক্ষ্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, ঐক্য ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লিয়াকত আলী প্রমুখ।
বিকালে যশোর টাউন হল মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুই দিনের এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন ১৯৪৬ সালে যশোরের কেশবপুরের পাঁজিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘সর্বভারতীয় কৃষাণসভা’ সম্মেলনের স্বেচ্ছাসেবক বাম নেতা নারায়ণ চন্দ্র বসু। এ সময় জাতীয় ও বাম সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর আগে পার্টির ভোলা ট্যাংক রোডের কার্যালয় থেকে শহরে লাল পতাকা মিছিল বের হয়। উদ্বোধনী পর্বে আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস, মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, মনোজ সাহা, যশোর জেলা কমিটির সভাপতি নাজিমউদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট বাম নেতা নুরুল হাসান। সভা পরিচালনা করেন যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু।
২০০৫ সালে যশোরে ওয়ার্কার্স পার্টির জাতীয় সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। আর এবার পালটা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনে ৩৮টি জেলার বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ৫৭ জেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যক্রম রয়েছে।
নৌকা প্রতীকে নির্বাচন, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পার্টিকে সংস্কারবাদী ও সুবিধাবাদী পার্টিতে রূপান্তরিত করার অভিযোগ এনে মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য ও যশোর জেলার সাবেক সভাপতি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ইকবাল কবীর বলেন, আগেই ২ নভেম্বরের সম্মেলন বর্জন এবং ২৯-৩০ নভেম্বরের সম্মেলন সফল করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই আহ্বানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। দেশের অধিকাংশ জেলার নেতাকর্মী এই সম্মেলনে অংশ নেন। আজ শনিবার সাংগঠনিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন জেলার নেতারা পার্টির রূপরেখা তৈরি করবেন।
পালটা কংগ্রেসকে ‘অবৈধ’ বলল মেননের পার্টি
এদিকে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গতকাল এক বিবৃতিতে যশোরে ওয়ার্কার্স পার্টির মতাদর্শগত সমন্বয় কমিটির নামে পার্টির বহিষ্কৃত কতিপয় রাজনীতিবিচ্ছিন্ন ব্যক্তির আয়োজনে তথাকথিত জাতীয় সম্মেলনকে অবৈধ, তামাশাপূর্ণ ও বিশেষ মহলের উদ্দেশ্য সাধনের হীন চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে।
