বিজয়ের চোখ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৩৬

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের আগে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একমাত্র টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএল। এই টুর্নামেন্টে তাই নির্বাচকদের নজর থাকবে বেশ। বিশ্বকাপের জন্য টি-২০’র বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার খুঁজতে বিপিএলই বড়ো অবলম্বন। ক্রিকেটাররাও তাই মুখিয়ে থাকবেন বিপিএলের আসন্ন সপ্তম আসরে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে।

টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার এনামুল হক বিজয় চান বিপিএলের মঞ্চ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ দলের বিবেচনায় নিজের দাবিটা জোরালো করতে। এবারের বিপিএলে পারফর্ম করার আড়ালে বিশ্বকাপকেই পাখির চোখ করছেন বিজয়। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে খেলবেন এই তরুণ। তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক, মাশরাফি বিন মুর্তজাদের সঙ্গী হয়ে টুর্নামেন্টে নিজের সামর্থ্য আবারও তুলে ধরতে চান বিজয়। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে বিশ্বকাপ ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বিজয়। এক হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৫৫ রান করেছেন। যেখানে স্ট্রাইক রেট ১১৭.৯৪। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন চার বছর আগে। ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩ চারে ৫১ বলে ৪৭ রান করেছিলেন তিনি। বিজয় ইনিংস সর্বোচ্চ রান করলেও বাংলাদেশের স্কোর হয়েছিল ৯ উইকেটে ১৩৫। ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরেছিল ৩ উইকেটে।

তারপর আর টি-টোয়েন্টি দলে দেখা যায়নি বিজয়কে। অবশ্য বিপিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে এই তরুণের পারফরম্যান্স খুব খারাপ নয়। ১০২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২১৩৯ রান করেছেন। যেখানে আটটি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি রয়েছে। স্ট্রাইক রেটে অবশ্য বড়ো উন্নতি নেই, ১১৯.২৩।

২০১২ সালে বিপিএল অভিষেকে নজর কেড়েছিলেন বিজয়। এবারও বিপিএলে ব্যাট হাতে নিজের সেরাটা দিতে চান তিনি। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার ভাবনা বিপিএলে থাকবে কি না জানতে চাইলে গতকাল বিজয় বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগতভাবে অনেক পরিকল্পনা থাকে। কে কীভাবে খেলবে, কত ভালো খেলবে, দলের জন্য কতটুকু অবদান রাখতে পারবে। অবশ্যই পরিকল্পনা থাকবে। আমাদের সবারই। আমার নিজেরও আছে। দলের জয়ে কীভাবে অবদান রাখব।’

২৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার আরো বলেন, ‘আসলে বিপিএল দিয়েই আমার ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখানে ভালো পারফর্ম করে আমি যেন আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারি। এটা আমার জন্য ভালো মঞ্চ।’

ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইক রেটেও নজর থাকবে বিজয়ের। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে মিডল অর্ডারেই হয়তো খেলতে হবে তাকে। তিনি বলেছেন, ‘আমার ক্ষেত্রে বিশেষ ভালো লাগা কাজ করে বিপিএলকে ঘিরে। কেন না পাঁচ-ছয়টা বিপিএলের মধ্যে তিনটা বিপিএলে আমি চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলাম। চেষ্টা করব এখানে আরো বেশি ভালো করার। দল জেতাতে যদি ১৪০ স্ট্রাইক রেট রাখতে হয়, তাহলে সেটা রাখার চেষ্টা করব।’

মাশরাফি-তামিমদের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে একই দলে খেলবেন বিজয়। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে বিপিএল উপভোগ করাই তার লক্ষ্য। বিজয় বলেছেন, ‘চেষ্টা করব এবারের বিপিএলটা খুব আনন্দের সঙ্গে খেলার। যেহেতু মাশরাফি ভাই আছে, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, তারপর কুমিল্লাতে তামিম ভাইয়ের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। চ্যাম্পিয়ন সতীর্থ সবাই। এই আনন্দটাকে যদি ক্রিকেট মাঠে আমি খুব সুন্দর করে উপভোগ করতে পারি, নিজের শতভাগ দিয়ে থাকতে পারি তাহলে এই বিপিএল আমার জন্য খুব স্মরণীয় হবে।’