রুয়েট সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি

মানুষ এখন দানব হয়ে যাচ্ছে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২১

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘গানে বলছে মানুষ দানব হতে পারে না, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষই এখন দানব হয়ে যাচ্ছে। এটা কোন অবস্থা? এর থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে। এগুলো বন্ধ না হলে একদিন আমরা জাতি হিসেবে ধ্বংস হয়ে যাব, পঙ্গু হয়ে যাব। এ ব্যাপারে মানুষকে জাগ্রত করতে হবে।’

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘অধিক মুনাফার জন্য ব্যবসায়ী-মজুতদাররা কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। পৃথিবীর কোনো দেশে খাদ্যের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণা-প্রবঞ্চনা কোথাও তারা করে না। আমার কাছে সাহায্যের জন্য যারা আসে, তাদের শতাংশ ক্যানসার রোগী। খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিনের কারণেই এগুলো হচ্ছে। মানুষকে সচেতন হতে হবে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে দেশ যত বেশি উন্নত, সে দেশ তত বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের বিপুল মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ায় আমরা আশানুরূপভাবে এগোতে পারিনি। বর্তমান সরকার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সার্টিফিকেট দেওয়া এবং শিক্ষার প্রসারই শেষ কথা নয়। আমাদের প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা। বর্তমানে প্রতিনিয়তই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। কাজেই আমাদেরও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বাস্তবভিত্তিক ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। গুণগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে ল্যাবরেটরির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এজন্য গবেষণা ও ল্যাবরেটরি কর্মের ওপর অধিক মনোনিবেশ করা জরুরি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মাথায় রেখে ন্যানো টেকনোলজি, রোবোটিক্স, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা যাতে দেশের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে ব্যবহূত হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে উদ্যোগী হবেন বলে আমার বিশ্বাস। ’

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে আবদুল হামিদ বলেন, ‘তোমরা আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। এই দেশ তোমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। মনে রাখতে হবে—এই দেশ, এ দেশের জনগণ তোমাদের এতদিন দিয়ে এসেছে। তাদের করের অর্থেই তোমরা আজ গ্র্যাজুয়েট, প্রকৌশলী। তাই তোমরা দেশ ও জাতির কাছে ঋণী। তোমাদের মেধা, কর্ম ও মনন দিয়ে সে ঋণ শোধ করতে হবে। সততা মানুষের জীবনে মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবনে তোমরা সত্পথে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।’

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াটেক অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রুয়েট উপাচার্য প্রফেসর রফিকুল ইসলাম শেখ। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, রুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীকে সনদপত্র এবং স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ৯ জন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করেন।