৯৬ হাজার টনের স্থলে পেঁয়াজ এসেছে ১০ হাজার টন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২১

পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি অনুমোদন নিলেও আনা হচ্ছে একেবারে কম। আমদানিকারকেরা চিন্তা-ভাবনা করে এলসি করছে। যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু হয়েছে, তা দ্রুত আমদানি হলে দাম অনেক কমে যেত বলে পাইকারি বিক্রেতারা জানান। আমদানিতে ধীরগতির কারণে পাইকারি বাজারে চাহিদার তুলনায় প্রচুর ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ৯৬ হাজার ৬৮৫ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু হয়েছে। তার মধ্যে দেশে পৌঁছেছে মাত্র ১০ হাজার ১৬০ টন। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, এই পাইকারি বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ বিক্রি হয়ে থাকে। এখন বাজারে যা আসছে, তা মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

ইস্যু করা আইপিতে দেখা গেছে, খুবই কমসংখ্যক আমদানিকারক ১ হাজার টনের ওপরে আমদানির জন্য আইপি অনুমোদন নিয়েছে। শুধু সোনালী ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি করেছে। তবে সমপরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করেছে কি না, জানা যায়নি। আবার কয়েকজন মিলে আমদানি করার জন্য আইপি অনুমোদন নিয়েছে এ ধরনের অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে। কিন্তু আমদানি হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। ব্যবসায়ীরা জানান, জানা যায়, মিয়ানমারে উত্পাদিত নতুন পেঁয়াজ এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। ভারতে এক-দুই মাসের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে এসব বিষয় চিন্তা-ভাবনা করে আমদানিকারকেরা পেঁয়াজ আনছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মূলত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ও টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ এসে থাকে। আবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা সব পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের বাজারে আসে না। বন্দর থেকে সড়কপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলে যায়। ফলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এতে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গতকাল পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকা, মিশরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা এবং চায়না পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু হয়েছে, তা দ্রুত আমদানি হলে বাজার অনেক কমে যেত। বন্দর দিয়ে আমদানি কেন দ্রুত হচ্ছে না, তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৬৮৫ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু করেছি। তার মধ্যে ১০ হাজার ১৬০ টন দেশে পৌঁছেছে। বন্দরে এলেই আমরা পরীক্ষা করে দ্রুত ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’

হামিদউল্লাহ খান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে বলেন, পাইকারি বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পাইকাররাও পরিমাণে কম নিচ্ছেন। আমদানি দ্রুত হলে দাম অনেক কমে যেত। চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ দুই দিক থেকেই পেঁয়াজ কম আসছে।’ পাইকারি ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, এলসি করার পর আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। ফলে দেশে পৌঁছার পর বর্তমান বাজারমূল্য পাবে কি না, তা নিয়ে আমদানিকারকেরা চিন্তায় থাকে।