পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, গত ২২ বছরেও পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার এই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মিথ্যাচার করে চলেছে। বাংলাদেশ শুধু বাঙালিদের নয়, এ দেশ সকল জাতিগোষ্ঠীর। কিন্তু এখানে পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠী তার পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদা পাচ্ছে না। শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন মানে সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, জুম্ম জনগণকে নানা মিথ্যা অভিযোগে জিম্মি করে আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পার্বত্য সমস্যা সমাধানের যে কোন ধরণের চক্রান্ত দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কখনোই শুভ ফল বয়ে আনতে পারে না। গতকাল রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকারি তথ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির মাত্র এক তৃতীয়াংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৪টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৫টি ধারা আংশিক আর ৩৪ ধারা সম্পূর্ণরূপে অবাস্তবায়িত রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার করা হচ্ছে যে, ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজাতি জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে-সরকারের এমন দাবিকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে সন্তু লারমা বলেন, সরকার জুম্ম জাতিসমূহকে চিরতরে নির্মূলীকরণের হী্ন উদ্দেশ্যে যুগপত্ বাঙালিকরণ ও ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপ-এর সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ও অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উ উইন মং জলি।
