হঠাত্ করে কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীসহ সারাদেশে দাম বেড়েছে চালের। এমনিতেই পেঁয়াজের ঝাঁজে মানুষ অতিষ্ট; এ সময় আবার চালের দাম বাড়ায় বেশ ভোগান্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
সম্প্রতি সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। চাল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কেউ বেশি দামে চাল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৫৪ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য চালের মধ্যে পাইজাম, লতা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা ও ইরি/স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। যা গত ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি।
চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গতকাল রবিবার খাদ্য মন্ত্রণালয় তিনটি কমিটি করেছে। কমিটি রাজধানীসহ সারাদেশে বাজার মনিটরিং করে প্রতিবেদন দেবে। সেই সঙ্গে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কেউ বেশি দামে চাল বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ সেই কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবে। অভিযোগ কেন্দ্রের ফোন নম্বর: ০২-৯৫৪০০২৭ এবং ০১৬৪২-৯৬৭৭২৭।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটিগুলো প্রতিদিন তিনটি করে বাজার মনিটরিং করবে। কমিটি-১ এর নেতৃত্বে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। কমিটি-২ এর নেতৃত্বে আছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুল আলমের নেতৃত্বে কমিটি-৩ গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক কমিটিতে তিন জন করে সদস্য রয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাজার মনিটরিং চালিয়ে যেতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসকদেরকে এ মনিটরিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
