‘কোনো কারণ ছাড়াই আমার স্বামী ফল ব্যবসায়ী আক্কাস ভূঁইয়াকে হাতিরঝিল থানায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। কোনো ধরনের মামলা বা জিডি না থাকলেও তাকে ৩৮ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘুষ দাবি করে। কিন্তু ওসির চাহিদামতো টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় কোর্টে চালান করা হয়।’ গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন শারমিন আক্তার বৃষ্টি নামে এক নারী। স্বামীর মুক্তির জন্য ঐ নারীকে ওসি কুপ্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আক্কাস ভূঁইয়া নিজেকে শেখ সেলিমের এপিএস পরিচয় দিয়ে আমাকে এবং ডিসি স্যারকে গালিগালাজ করেছেন। সে কারণে তাকে ধরে আনা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের পর কোর্টে চালান করা হয়েছে।’
সাংবাদিক সম্মেলনে বৃষ্টি অভিযোগ করেন, গত ৫ অক্টোবর তার স্বামীকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আটকের সময় পুলিশ বলেনি কি অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু একদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি, এমনকি ছেড়েও দেয়নি। আমরা পুলিশকে বলেছি, অভিযোগ থাকলে মামলা দিন, নতুবা ছেড়ে দিন। কিন্তু তারা কিছুই করছিলেন না। পরদিন আমাকে থানায় ডাকা হয়। আমাকে ৬ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি। আমরা গরিব মানুষ। তাই তাকে ৫ হাজার টাকা দেই। কিন্তু এতে ওসি খুশি হতে পারেননি। এরপরই তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামীকে কোর্টে পাঠিয়ে দেন।’
বৃষ্টির অভিযোগ, শুধু তার স্বামী নয়, সঙ্গে পলাশ নামে এক আত্মীয়কেও আটক করে পুলিশ। ঐ ঘটনার পর পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওসির হয়রানি থেকে মুক্তি চায় পরিবারটি।
