ভুটানের কাছে হার দিয়ে শুরু

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২০

বাংলাদেশ মালদ্বীপ মুখোমুখি আজ

 স্পোর্টস রিপোর্টার

এসএ গেমস ফুটবলে ভুটানের কাছে হার দিয়ে বাংলাদেশের মিশন শুরু। বড়োরা ভুটানের কাছে  হেরেছিল। এবার হারল অনূর্ধ্ব-২৩ বাংলাদেশ ফুটবল দল। অনূর্ধ্ব-২৩ হলেও মূলত এই দলের প্রায় সবাই সিনিয়র দলে খেলছেন। তারপরও ভুটানের কাছে হারে ফুটবল দর্শক বিব্রত। হারজিত থাকবে। তাই বলে রক্ষণের এমন ভুল, মেনে নেওয়ার মতো না। গতকাল কাঠমান্ডুর দশরথে গেমস ফুটবলের উদ্বোধনী দিনে ৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার রহমত মিয়া আর ইয়াসিন খানের মাঝখান দিয়ে ভুটানের সিনিয়র ফুটবলার চেনচো গেইলশেন জয়সূচক গোল করেন ১-০। একদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া পাঁচটায় শুরু। পাঁচ দেশ নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে খেলা হচ্ছে।

২০১৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভুটানের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হারে দেশের ফুটবল প্রিয়রা সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন। এরপর একাধিকবার ভুটানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এসএ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ কখনো ভুটানের কাছে হারেনি। কাল সেই গৌরবও তুলে নিয়েছে ভুটান। এমন একজন জয় এনে দিয়েছে ভুটানকে যিনি বাংলাদেশের ফুটবলারদের ফাঁকফোকরগুলো ভালোভাবে চেনেন, জানেন। সুযোগ কিভাবে নিতে হয় তা জানা আছে চেনচোর। এই ফুটবলার শেখ কামাল ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছেন। আইলিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশের কয়জন ফুটবলার আই লিগে খেলেছেন। ভুটানের ফুটবলে চেনাচোকে বলা হয় রোনালদো, তাদের ফুটবলে সর্বকালের সেরা এই ফরোয়ার্ড কাল এসএ গেমস ফুটবলে যে জয়টি এনে দিয়েছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভুটান ফুটবলে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে চেনচো বাংলাদেশের দুর্বলতা যতটুকু জানেন বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা চেনচোর কৌশল সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন না রাখলেও পাত্তা দেন না। না দেওয়ার খেসারতই দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের নাবীব নেওয়াজ জীবন, সাদ উদ্দিনরা ভুরিভুরি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন। তার খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলার খেলোয়াড়রা যেভাবে সুন্দর খেলে আসছিলেন ভালো খেলে দেশের ফুটবলে সমাদৃত হয়েছিলেন কাল নেপালে দশরথের মাঠে ভুটানের কাছে হেরে লজ্জায় ফেলেছেন। জীবন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার হলে তার দুর্বলতার কারণে বার বার বাংলাদেশ ফুটবল দল গোল বঞ্চিত হচ্ছে। ওপেন নেট মিস করে, গোল বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলায় জীবন যে পরিমাণ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তার সিকিভাগ কাজে লাগলেও বাংলাদেশ অন্তত একটা জয়ের মুখ দেখত। জীবন মাঠে নামা মানেই বাংলাদেশ ১০ জন নিয়ে খেলবে। যতই খারাপ খেলুক তাকেই নামাতে হবে। নতুন কাউকে সুযোগ দিতে রাজি না ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি। বাফুফেও গভীরে গিয়ে ভাবে না। ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির হাতে দায়িত্ব দিয়ে খালাস। সেখানে চলছে একজন নির্ভর ফুটবল। একজনের হাতে দেশের ১৬ কোটি মানুষের ফুটবল ভাগ্য নির্ভর করছে। জবাবদিহিতা নেই।