বিবিসি
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম অভিশংসন শুনানিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার আইনজীবীরা হাজির হতে পারবেন না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। বুধবার এ শুনানি হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এ শুনানিতে নিজে কিংবা কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা জানাতে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউজের কাউন্সেল প্যাট সিপোলোনে প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে লেখা এক চিঠিতে প্রথম শুনানিতে ট্রাম্প অংশ নিচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন । সিপোলোনে বলেন, শুনানিতে ‘ন্যায্যভাবে’ অংশ নিতে পারবেন বলে ট্রাম্প মনে করছেন না।
প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির ডেমোক্র্যাট চেয়ারম্যান জেরল্ড নেডলার গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে শুনানিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয় এতে অংশ নেবেন, নাহলে এই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ জানানো বন্ধ করবেন। ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের দ্বিতীয় শুনানিতে হাজির হবেন কি না, হোয়াইট হাউজ তা নিশ্চিত করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ কার্যালয় জানিয়েছে, পরের শুনানিতে অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে জানানো হবে। শুক্রবার পর্যন্ত দ্বিতীয় শুনানির তারিখ ঠিক হয়নি। সিপোলোনে বলেছেন, মার্কিন গণমাধ্যমের ধারণা অনুযায়ী প্রথম শুনানিতে বিচার বিভাগীয় কমিটি যে সাক্ষীদের হাজির করবে, তারা ‘সম্ভবত সবাই বিশেষজ্ঞ’, কোনো ‘প্রকৃত সাক্ষী’ থাকছে না।
সাধারণত প্রকৃত সাক্ষীরা কোনো একটি ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে থাকা তথ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরা তাদের মতামতের মাধ্যমে বিচারকদের কাজে সহযোগিতা করেন। বিচার বিভাগীয় এ কমিটি তিনজন সাক্ষীকে ডাকলেও, রিপাবলিকানদের কেবল একজন সাক্ষীকে ডাকার অনুমতি দিয়েছে, বলেছেন প্রেসিডেন্টের এ কাউন্সিল। আগের শুনানিগুলোর মতোই এবারের শুনানি হচ্ছে- নেডলারের এমন দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিপোলোনে। বলেছেন, ১৯৯৮ সালে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ন্যায্য অভিশংসন শুনানিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তী শুনানিগুলোতে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ চাইলে নেডলারকে ‘সঠিকভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ’ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ‘ন্যায্যতা ও সঠিকতা’ নিশ্চিত করতে হবে, বলেছেন তিনি। বিচার বিভাগীয় এ কমিটি তিন জন সাক্ষীকে ডাকলেও, রিপাবলিকানদের কেবল একজন সাক্ষীকে ডাকার অনুমতি দিয়েছে, বলেছেন প্রেসিডেন্টের এ কাউন্সেল।
তদন্তকে ‘উইচ হান্ট’ অ্যাখ্যা দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। বিচারবিভাগীয় শুনানির আগে গত সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির দুই সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিক শুনানির কাজ শেষ হয়। আগের সপ্তাহগুলোতে সাক্ষীদের রুদ্ধদ্বার সাক্ষাত্কার নেয়া হয়েছিল।
ডিসেম্বরের প্রথম ভাগের মধ্যেই বিচারবিভাগীয় এ কমিটি অভিশংসনের অভিযোগের খসড়া লেখা শুরু করবে। অভিযোগ নিয়ে প্রথমে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হবে। তারপর তা যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। উচ্চকক্ষে অভিযোগের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়লে ট্রাম্প হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট। তবে সিনেট রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এ ধরনের কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ‘একেবারেই কম’, অনুমান পর্যবেক্ষকদের।
