সিলেট-সুনামগঞ্জের কুমারগাঁও সড়ক বেহাল

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৭

  হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

সিলেট-সুনামগঞ্জের কুমারগাঁও সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশ যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কুমারগাঁওয়ের কাছে গত বর্ষায় সড়ক ভেঙে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন এই পথের যাত্রীরা। দুর্ভোগ লাঘবে ইট ফেলে বড়ো বড়ো খানাখন্দক ভরাট করলেও অনেক জায়গায় ইট দেবে গেছে। কোনো কোনো স্থানে আবার ভেসে ওঠা ইটের কারণে যানবাহনে মারাত্মক ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে মাটি ও ইটের ভাঙা অংশের ধুলায় ছেয়ে গেছে এলাকা।

সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশের কয়েকটি স্থানে মাটি বসে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর সমাধানে সেখান থেকে ১০-১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি ফেলে দিয়ে আবার সংস্কার করতে হবে। অর্থ পেলেই দ্রুত কাজ হবে বলে তিনি জানান।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশে খানাখন্দক অপসারণে কয়েক মাস আগে ইট ফেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। শেষ পর্যন্ত তাও কাজে লাগেনি। ইটগুলো ভেঙে আরো এবড়োখেবড়ো হয়ে নতুন মাত্রায় দুর্ভোগ বেড়েছে। দেবে যাওয়া অংশ থেকে উড়ছে ইটের গুঁড়ামিশ্রিত ধুলাবালি। এতে আশপাশের দোকানপাট, হোটেল, রেস্তোরাঁর খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ধুলা ঢুকে বসবাসের অযোগ্য অবস্থার  সৃষ্টি হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধুলাবালিতে থাকলে ফুসফুসের এবং শ্বাসনালীর জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধুলাবালি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

শাবির সামনে থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল পার হওয়া পর্যন্ত  অন্তত ২ কিলোমিটার সড়কে পাঁচ বার ইট সলিং রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।  ধুলাবালি, খানাখন্দক ও ইটের সড়কে ঝাঁকুনিতে এক বিচ্ছিরি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাউয়া-ডাবর, গোলচন্দ-লামাকাজি এলাকার রাস্তার খুব খারাপ অবস্থা। স্থানীয়রা জানান, কুমারগাঁও অংশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে বেশ কিছুদিন থেকে। কিন্তু সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাহাত জাহান বলেন, কুমারগাঁও বাস টার্মিনালের কাছের সড়কটি কোনো বিভাগীয় শহরের একটি সড়ক বলে মনে হয় না। বাস টার্মিনাল এলাকার কয়েকজন জানান, সারাক্ষণ মুখোশ পরে থাকতে হয়।