পুরো মাঠ জুড়ে বাড়মুডা প্রজাতির সবুজ ঘাস। যা আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। চারদিকে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, অতিবৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে সুব্যবস্থা। রয়েছে বিশ্রামাগার, ফুটবল ও ক্রিকেট অনুশীলনের ব্যবস্থা। ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবোর মাঠটি পেয়েছে এমন নতুন রূপ। শুধু মাঠের উন্নয়নই করা হয়নি। বদলে গেছে মাঠের নামও। উদ্বোধনের পর মাঠের নামকরণ করা হয়েছে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আলাউদ্দিন পার্ক’।
সরেজমিন দেখা যায়, সবুজ মাঠে শিশুরা খেলছে। শিশুদের খেলাধুলা দেখে অনেক অভিভাবক এটিকে একটি ইতিবাচক কাজ হিসেবে দেখছেন। মাঠে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য খেলাধুলা ও হাঁটার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্রজাপতি আকৃষ্ট হয় এমন ফুলের গাছও আশপাশে রয়েছে। নিজস্ব রিজার্ভার থেকে ৯টি ঝরনার মাধ্যমে মাঠের ঘাসে পানি ছিটানো, দর্শক গ্যালারি ও আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এখানে। ৪ দশমিক ৩৬ বিঘা জমির ওপর নির্মিত মাঠটি আধুনিকায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। মাঠটিতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। সিনিয়র নাগরিকরা সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা মাঠের চারদিকে হাঁটতে পারবেন। এই মাঠে নগরায়ণের মধ্যে গ্রামের অবয়ব রয়েছে।’
বাসাবোর এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘১৯৫৬ সালে আমাদের মুরুব্বিরা এই মাঠ তৈরি করেছেন। এই মাঠে আমরাও খেলেছি, আমাদের মুরুব্বিরাও খেলেছেন, এখন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও খেলছে। দীর্ঘদিন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে মাঠে কেউ খেলতে পারেনি। এখন খেলার উপযোগী করে মাঠটি তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, এলাকার শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মাঠটিতে উন্নত সবকিছুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর জন্য সিটি করপোরেশকে তিনি ধন্যবাদও জানান। মাঠটি দেখাশুনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাসাবো তরুণ সংঘকে। বাসাবো তরুণ সংঘের সভাপতি লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীকে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই মাঠের উন্নয়ন করেছে। এটি এখন আমাদের দেখে রাখা কর্তব্য। আশা করছি এর মাধ্যমে শিশুরা মাঠে ফিরবে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের খেলার কোনো জায়গা ছিল না। তারা বাসার মধ্যেই খেলত। মাঠটি খুলে দেওয়ার পরে এখন এটি প্রাণ চঞ্চল থাকে। মাঠের পরিবেশ দেখতেও অনেক সুন্দর। মাঠকে ঘিরে আশপাশের পরিবেশও বদলে গেছে। ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বাসাবো খেলার মাঠটি সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয়দের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। আমাদের ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠগুলোর উন্নয়ন করছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণের ৩১টি খেলার মাঠ ও পার্ক বিশ্বমানের করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক মাঠের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
