দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দেশে ক্রয়-দুর্নীতিই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রায়ই পত্রপত্রিকায় ক্রয়-দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়; যা দেশের মানুষের মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করে। গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘ট্রেনিং অন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড প্রাকটিসেস ফর এসিসি অফিশিয়াল’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, সম্পূর্ণ অসত্ উদ্দেশ্যে কেবল সরকারি অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যেই অনেক ক্রয় প্রস্তাবে উচ্চ দর প্রাক্কলন করেন বলে শোনা যায়। এগুলো বন্ধ করতেই হবে। জনগণের অর্থ কোনো ব্যক্তির নয়। কঠোর নজরদারি, নিখুঁত তদন্ত সর্বোপরি প্রসিকিউশনের মাধ্যমে এসব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাই এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান অবশ্যই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধান বা তদন্তে প্রয়োগ করতে হবে। আর যদি এটার প্রয়োগ না ঘটে তাহলে জনগণের অর্থে পরিচালিত এসব প্রশিক্ষণ ভিত্তিহীন হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, আজও বলেছি ক্রয় সংক্রান্ত অনুসন্ধান বা তদন্তে আপনাদের না বোঝা বা জানার কারণে যেন একটি লোকও হয়রানির শিকার না হন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনাদের অঙ্গীকার হবে নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। আর এজন্যই প্রয়োজন মানসম্মত তদন্ত, মানসম্মত অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন। সার্বিকভাবে দুদকের মামলায় শতভাগ সাজা নিশ্চিত করা উদ্দেশ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক মো. আলী নূর, দুদকের প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল, দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা, মো. মঞ্জুর মোরশেদ, সহকারী পরিচালক জাহিদ কালাম, উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া প্রমুখ। আলোচনা শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান করেন দুদক চেয়ারম্যান।
