বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পাবর্ত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি পালিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বান্দরবান :সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বান্দরবানে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর ৬৯ রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শাহিদুল এমরান। পরে বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ অংশ নেন। এদিকে রাজারমাঠে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সহস্রাধিক পাহাড়ি-বাঙালি গরিব ও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়। পরে চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের বিনা মূল্যে চিকিত্সাসেবা ও ওষুধ প্রদান করেন সেনাবাহিনীর চিকিত্সকেরা। এদিকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তিতে কোনো অনুষ্ঠান পালন করেনি জনসংহতি সমিতি।
রাঙ্গামাটি :পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আলাদাভাবে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। জেলা পরিষদে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দীপংকর তালুকদার এমপি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার সভাপতিত্বে সভায় সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুর রহমান, জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজি কামালসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেছে। সরকার চুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছে। সরকার ভূমি কমিশন আইন পাশ করেছে। শান্তিচুক্তির বাকি অংশগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে মূল বাধা অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হচ্ছে। এই সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছে পাহাড়ের মানুষ। দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য তারা কাজ করছে।
অন্যদিকে রাঙ্গামাটি জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা। এছাড়া সভায় জনসংহতি সমিতির অন্যরা বক্তব্য রাখেন। সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় গত ২২ বছরেও ঐ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে পারেনি, যার ভবিষ্যত্ এখন অনিশ্চিত। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর ভুলত্রুটি নেই, সেটা আমরা বলছি না। আমাদেরও ভুল-ত্রুটি রয়েছে। এটি দেখার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী জনগণের দায় এড়াতে পারেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নে আপা আপনাকে কেউ কেউ ভুল বোঝাবে, আপনাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলবে। আপনি কারো কথায় না ভুলে আপনার সাহস নিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন।’ এছাড়া বিকালে রাঙ্গামাটি চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও রাঙ্গামাটি রিজিয়নের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
খাগড়াছড়ি :আনন্দ শোভাযাত্রা, শান্তি কনসার্টসহ নানা আয়োজনে জেলায় পালিত হয় শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি। সকালে জেলার গুইমারায় সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড, গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে গুইমারা মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পরে এটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আর্মি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বর্ষপূর্তির উদ্বোধন করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান। শোভাযাত্রায় গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কয়েক হাজার পাহাড়ি-বাঙালি অংশগ্রহণ করে। পরে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আবুদল হাই, সিদুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব, উপজলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহামদ, গুইমারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা প্রমুখ।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএম লারমা) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি পালন করেছে। ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
