সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতা’ নির্মূল করা হবে। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় হোটেল ভিলা মাগনায় তার সম্মানে স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর ধরে দেশ শাসনকারীদের অপকর্মের কারণে অনেক ময়লা ও আবর্জনা জমে গেছে এবং মানুষের চরিত্রে ভাঙন ধরেছে।       স্পেনে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ ঘুষ-দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে, সন্ত্রাস করে, লোকজনের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করতে চায় এবং তারা বলতে চায় যে ‘মুই কী হনু রে’। তিনি বলেন, কিন্তু আমরা চাই জনগণের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতা থাকবে না এবং সমাজের এই অসুস্থতা নির্মূল করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অসত্ পথে থেকে ‘বিরিয়ানি’ খাওয়ার চেয়ে সত্ পথে থেকে ‘নুন-ভাত’ খাওয়া অনেক ভালো। আমরা জাতির জনকের কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই শিক্ষা দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাম শুনলে অন্যান্য দেশের মানুষ এখন বাংলাদেশকে সম্মান করে। কিন্তু তারা আগে জানত যে বাংলাদেশ হচ্ছে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ ও দুর্নীতির দেশ। তিনি আরো বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু এখন সে দুর্নাম ঘুচে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের অদম্য অগ্রগতি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যাতে বাংলাদেশকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কল্যাণে তার সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রবাসীদের উত্সাহিত করতে রেমিট্যান্টস পাঠালে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে।

বিগত একদশকে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত এবং বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। জিডিপির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। আমরা প্রত্যেক জায়গায় বিদ্যুত্ পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছি।

স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী কপ-২৫’র রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রবিবার বিকালে স্পেন পৌঁছান।