ইত্তেফাক রিপোর্ট
মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পর এবার উপশাখার অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন দেশের ব্যাংকগুলো লেনদেনের জন্য শাখা খুলে ব্যবসায় করত, এবার এই ব্যাংকগুলো উপশাখাও খুলতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংক এরই মধ্যে ‘ব্যাংকিং বুথ’ নামে ব্যবসায় কেন্দ্র খুলেছে, সেই কেন্দ্রগুলোকে ‘উপশাখা’ নামে অভিহিত করতে হবে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে ‘ব্যাংকিং বুথ’ নামের ব্যবসায় কেন্দ্রগুলো ‘উপশাখা’ নামে পরিচিত হবে। একইসঙ্গে ‘ব্যাংকিং বুথ’ শব্দগুচ্ছ এবং ‘ব্যাংকিং বুথ’ বোঝাতে ব্যবহূত শব্দগুচ্ছ ‘উপশাখা’ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তার মতো উপশাখার নগদ টাকা জমা ও ক্যাশে থাকা টাকার পূর্ণ বিমা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে উপশাখায় ভল্ট স্থাপন করা যাবে। ঐ ভল্ট নিয়ন্ত্রণকারী শাখার ভল্ট হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংকের কোনো পূর্ণাঙ্গ শাখার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত স্বল্পব্যয়ী ‘ব্যবসা কেন্দ্র’ এখন থেকে উপশাখা নামে পরিচালিত হবে। ব্যাংকের শাখার মতো উপশাখাগুলোতেও বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব ব্যবসায় কেন্দ্র চালু করতে হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া উপশাখার আকার এক হাজার বর্গফুটের বেশি ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুই জন কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। ব্যয়ের বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বল্পব্যয়ী ব্যাংকিং আউটলেট বিবেচনায় প্রচলিত শাখা স্থাপনের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন ব্যয় সীমার চেয়ে উপশাখা স্থাপনের ব্যয় এবং প্রচলিত শাখা থেকে দেওয়া ব্যাংকিং সেবার জন্য নির্ধারিত ফি, চার্জ, কমিশনের চেয়ে উপশাখার সেবা দেওয়ার ফি, চার্জ, কমিশন সবই কম হবে।
উপশাখায় খোলা যে কোনো ব্যাংক হিসাব, মূল ব্যাংক শাখায় খোলা হিসাব বলে বিবেচিত হবে। হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিচিতির তথ্যসহ (কেওয়াইসি) প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। উপশাখার লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী শাখার বুকস অব অ্যাকাউন্টসে অন্তর্ভুক্ত হবে। উপশাখায় নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো থাকার কথা বলা হয়েছে। উপশাখায় যেসব সেবা পাওয়া যাবে তার একটি তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য অভিযোগকেন্দ্র থাকার কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপশাখার সেবার পরিসর এবং যে কোনো লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। তবে উপশাখায় বৈদেশিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে না।
