চাটমোহরে ‘বাউত উত্সবে’ মেতে উঠেছেন মত্স্য শিকারিরা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৬

হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর বিল ও নদীতে শুরু হয়েছে মাছ ধরার ‘বাউত উত্সব’। স্থানীয়ভাবে মাছ ধরার উত্সবকে বলা হয় বাউত উত্সব। প্রতি বছরের এই সময় শনিবার ও মঙ্গলবার পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত হাজার হাজার মত্স্য শিকারিরা এখানে মাছ ধরতে আসেন। কাকডাকা ভোর থেকে পলো, বাদাইজাল, ঘেরজাল, ঠেলাজালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ শিকার করতে আসেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার চলনবিল অধ্যুষিত বিল রউলে এই উত্সবে শত শত মত্স্য শিকারি মিলিত হয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অংশ জুড়ে কয়েক শত একর জলাশয় নিয়ে অবস্থিত বিল রউল। বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শৌখিন মত্স্য শিকারিরা যোগাযোগ করে একত্রিত হয়ে বাউত উত্সবে নেমে পড়েছেন।

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আগত পঞ্চান্ন বছর বয়সি ময়েজ উদ্দীন জানান, পলো দিয়ে মাছ ধরা তার দীর্ঘদিনের শখ। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতি বছরের এই দিনে বিল রউলে চলে আসেন। নাটোর জেলা থেকে আগত মত্স্য শিকারি আবু বক্কার বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাউতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই প্রতি বছর এই দিনে বিল রউলে মাছ শিকার করতে আসি। মাছ পাই আর না পাই এটি আমার অন্যতম শখ।

বড়াইগ্রামের আফসার আলী মাছ না পেয়ে হতাশার সুরে বলেন, এখানকার লোকজন আগের রাতে জাল দিয়ে মাছ মেরে নিয়েছে। তাই এখন আর তেমন মাছ নেই এই বিলে। মঙ্গলবার রউল বিলের বাউত উত্সবে যোগ দিতে আসা চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামের আ. ছাত্তার, ধানকুনিয়া গ্রামের মোতালেব হোসেন, জালেশ্বর গ্রামের ওফাজ আলী, সাদ্দাম প্রামানিক, রামচন্দ্রপুর গ্রামের রেজাউল করিম ধনি, বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল গ্রামের আব্দুল আলী, আরশেদ আলীসহ অন্য বাউত জানান, হাজার হাজার মানুষ এক সঙ্গে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। মাছ সবাই পায় না।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বাউত উত্সব গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। বড়ো বিল, ডেঙ্গার বিল, খলিশাগাড়ি বিল, রউল বিল, ডিকশীবিলসহ অন্য বিলে বাউতরা মাছ ধরছে। তবে বাউত উত্সবের ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। দেশি প্রজাতির ছোটো মাছ, শেওলা জাতীয় প্রাকৃতিক মত্স্য খাদ্য, পানির উপকারী অনুজীব এতে নষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সতর্কতা দরকার।