নারী নির্যাতনের মূল কারণ নারীর অধস্তনতা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫২

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারী নির্যাতনের মূল কারণ নারীর অধস্তনতা। এখনো নারীরা মানুষ হিসেবে সমাজে স্বীকৃত নয়। অধস্তনতার কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিকতা। যা নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে। সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যে পুরুষতান্ত্রিকতা রয়েছে। নারীরা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে যে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা অনেকেই বুঝতে পারে না। ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা রয়েছে নারীদের। তবে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সোচ্চার হতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ও মানবাধিকার পক্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই সভার আয়োজন করে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এটিই প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে নারী আন্দোলন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগে অসংগতি আছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ও আইন সংশোধনে কাজ করতে হবে। নারী নির্যাতনের বিচারের ঘটনার শিকার নারীর স্বীকারোক্তিই যথেষ্ট। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করতে এবং জেন্ডার সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সমাজে প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির পরিবর্তন করতে হবে, বৈষম্যমূলক আইনের সংশোধন ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জেন্ডার সংবেদনশীল পাঠ্যসূচি তৈরি করতে হবে।

সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যেকোনো বয়সের নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন যুগের দাবি।

প্যানেল আলোচক বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, যথাযথ সেবা নারীরা পায় না। নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এটি নারীর প্রতি সহিংসতার এক ধরনের রূপ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, প্রচলিত ধর্ষণের অপরাধসংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী নয়। এটির পরিবর্তন করতে হবে। ধর্ষণের সংজ্ঞা বৈশ্বিকভাবে পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের আইনে পরিবর্তন হয়নি। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে ২০০৯ সালের হাইকোর্ট বিভাগের প্রণীত গাইডলাইন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর (হসপিটাল-২) ডা. মো. ইউনূস আলী বলেন, ঘরের ভেতরেও নারী নির্যাতন হচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। মূল্যবোধের পরিবর্তন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাহ্ উদ্দিন কাউসার বলেন, দেশে মানসিকভাবে নির্যাতনের বেশিরভাগ দিকটি উপেক্ষিত। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারমুখী কার্যক্রম আরো বেশি করতে হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সেলিনা, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ এর সামিনা শিপ্রা. জাতীয় আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভোকেট হালিমা খাতুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আক্তার।