মুক্তিযোদ্ধাদের অসচ্ছল থাকা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জা :হাইকোর্ট

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩২

হাইকোর্ট বলেছে, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সরকারি ভাতা পাওয়া তাদের অধিকার, এটা কোনো করুণা নয়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের অসচ্ছল থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জা। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে রায়ে চাঁদপুর জেলার ১৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে বন্ধকৃত ভাতা চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চারটি জেলার ২০৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রায় পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে গেজেটভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ও এর পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

২০১৬ সালে ২০৮ জন মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত না করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। এর মধ্যে চাঁদপুরের ১৪৯ জন, পাবনার ৪০ জন, মাগুরার ১১ জন ও কুষ্টিয়ার আট জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। রিটে বলা হয়, ২০৮ মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকার কর্তৃক গঠিত উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) গেজেট প্রকাশের জন্য প্রেরণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ঐ তালিকা থেকে পছন্দের কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে রিট আবেদনকারীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ঐ রিটের রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল এ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্তির যে সুপারিশ করেছে তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো অমুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয় তাহলে তার নাম কর্তনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদান ও শুনানি গ্রহণের সুযোগ দিয়ে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলেছে হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে তৌফিক ইনাম টিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত শুনানি করেন। অমিত দাসগুপ্ত বলেন, রায় ঘোষণাকালে আদালত বলেছে যথাসম্ভব স্বশরীরে হাজির হয়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করতে হবে। যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেট থেকে বাদ দিতে হয় তাহলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তাদের নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনারও নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। তিনি বলেন, আমরা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।