স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএসএফের পুশইনে বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশি নাগরিক না হলে কেউ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে প্রস্তুত রয়েছে। অবৈধভাবে পুশইনের যেকোনো চেষ্টা বিজিবি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। তারা সেই প্রস্তুতি নিয়েই সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার আসামির মাথায় জঙ্গি সংগঠন আইএসের টুপি কোথা থেকে এসেছে তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কীভাবে আইএসের লোগো আঁকা টুপি পেল, সেটি আমি নিজেও জানতে চাই। কোনোভাবেই জেলখানায় বন্দি আসামির বাইরে থেকে টুপি পাওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত করেই আসল ঘটনা বলা যাবে।
রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ২০০ এর বেশি কিছু লোককে পুশইন করতে চেয়েছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। হাজার হাজার মানুষের কথা বলা হলেও তারা সংখ্যায় খুব কম। শ খানেক হতে পারে। তবে তারা বাংলাদেশি কি না, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কি না, ভিসা শেষ হয়ে গেছে কি না এরকম জটিলতায় পড়ে লোকজন বাংলাদেশে ফেরত আসতে চাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না, প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা উসকানিমূলক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, না, এটি উসকানিমূলক নয়। যদি হাজার হাজার বা শত শত হতো তাহলে একটা আলোচনার ব্যবস্থা হতো। এগুলো অল্প কিছুসংখ্যক, এরা গিয়েছিল এরাই ফিরে এসেছে কি না, ভারত সরকার তো আমাদের কাছে কোনো চিঠি দেয়নি, কোনো আবেদনও করেনি। যারাই গিয়েছিল তারাই পালিয়ে আসছে কি না কিংবা অবৈধভাবে গিয়েছে অবৈধভাবে ফেরত আসছে কি না, সবকিছু আমাদের জানতে হবে। না জেনে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
আগের চেয়ে পুশইনের সংখ্যা বেড়েছে কি না—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো কিছু বেড়েছে, আমি সেটা অস্বীকার করছি না। তাদের রাজ্যে একটু কড়াকড়ি করেছে সেজন্য হয়তো আমাদের যারা ইচ্ছা করে থেকে গেছেন কিংবা তারা ভিসার তোয়াক্কা করেননি বা তারা অনেকদিন ধরে থেকে গেছেন, এ বিষয়ে চিন্তা করেননি; তারা হয়তো আবারও এরকমভাবে আন-অফিসিয়ালি আসার জন্য প্রচেষ্টা নিতে পারেন। এগুলো আমাদের অ্যাজামশন, যেহেতু তারা আমাদের সঙ্গে কোনোভাবে আলোচনায় আসেনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ অনেক বছর ধরে ওখানে যাওয়া-আসা করেন। কেউ শ্রমজীবী হিসেবে, কেউ পেশাদার হিসেবে যায়, কেউ অন্য কোনো সেবা যেমন- চিকিত্সা বা পড়াশোনা করার জন্য। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে হয়তো তাদের এ জটিলতা দেখা দিয়েছে। এরকম হতে পারে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে পুশইনের বিষয়ে কোনো আলোচনা করবেন কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বলে দিয়েছি তো আমরা। আমাদের কাছে অফিসিয়ালি কোনো আবেদন-নিবেদন নেই।’
উল্লেখ্য, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত ২৯ নভেম্বর চৌকি স্থাপন করেছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর চেষ্টা হলেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে বিএসএফকে। এদিকে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ করতে বিজিবির সঙ্গে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখানপুর গ্রামবাসী। সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে গ্রামের বাসিন্দারা টর্চলাইট ও লাঠি হাতে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পালা করে পাহারায় থাকছেন।
