একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৩

সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষা সামনে রেখে সব্বাই পড়াশোনায় নিবিড় মনোনিবেশ করছ। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের ৭ ও ১১ অধ্যায়ের চলন ও অঙ্গ চালনা/জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন -বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোওর উপস্থাপন করব, যা ২০২০ সালের এইচএসসি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন

বিয়ের পর রীতা বুঝতে পারল তার স্বামী কিছু বর্ণ চিনতে পারে না, শ্বশুর শ্বাশুড়ীর কারো মধ্যে এই সমস্যা নেই। রীতা ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে দেন এবং রীতার সন্তান ছেলে ও মেয়েতে বিষয়টি প্রকাশের সম্ভাবনাও ব্যাখ্যা করেন।

 

(ক) বিউটি বোন কী?                                    ১

(খ) অস্টিওন বলতে কী বুঝ?                           ২

(গ) রীতার স্বামীর রোগের কারণ ও উত্স ব্যাখ্যা কর।                                                           ৩

(ঘ) উদ্দীপকের বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা ভিন্ন-যুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ কর।       ৪

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

(ক) উত্তর ঃ ইন্টার-ক্লাভিকুলার লিগামেন্ট দ্বারা উভয় ক্লাভিকল সংযুক্ত থাকে। এ অস্থিকে কণ্ঠাস্থি বা বিউটি বোন বলে।

(খ) উত্তর ঃ অস্টিওন হলো নিরেট অস্থির গাঠনিক ও কার্যিক একক। নিরেট অস্থির  মাতৃকায় অস্টিওন অবস্থান করে।

(গ) উত্তর 

রীতার স্বামীর মূলতঃ বর্ণান্ধ রোগ হয়েছে। তিনি কিছু কিছু বর্ণ চিনতে পারেন না। মানুষের চোখের রেটিনায় বর্ণসংবেদী কোন কোষ উত্পাদনের জন্য একটি প্রকট সেক্স-লিংকড জিন প্রয়েজন হয়। এ জীনের প্রচ্ছন্ন অ্যালীল বর্ণসংবেদী কোন কোষ উত্পাদনে অক্ষম। সুতরাং রীতার স্বামী বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন সেক্স-লিংকড অ্যালীলের উপস্থিতি। এ প্রচ্ছন্ন অ্যালীলটি পুরুষে উপস্থিত থাকলেই সে বর্ণান্ধ হবে। এটি একটি জিনগত বংশগতিয় রোগ। পিতা মাতার এ জিন থাকলে সন্তান-সন্তুতিতে এটি ক্রমান্বয়ে সঞ্চারিত হয়। সাধারণতঃ পিতা-মাতার কারো সেক্স ক্রোমোজোমে এ জিন থাকলে তাদের ছেলে-মেয়েদের এ রোগ হয়ে থাকে। রীতার স্বামীর মাতা বর্ণান্ধ বাহক বলে এই রোগ রীতার শ্বাশুড়ী থেকে রীতার স্বামীর দেহে সঞ্চারিত হয়েছে।

(ঘ) উত্তর ঃ উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে রীতার স্বামী বর্ণান্ধ অর্থাত্ তিনি কিছু বর্ণ চিনতে পারে না। যেহেতুে বর্ণান্ধ রোগের জন্য দায়ী জিন হচ্ছে সেক্স-লিংকড প্রচ্ছন্ন অ্যালীল। তাই রীতার স্বামীর এ রোগ তাদের পুত্র সন্তানে প্রকাশের কোন সম্ভাবনা নেই। সুতরাং তাদের সব পুত্রসন্তানই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হবে। অপরদিকে, পিতার এ জিন তার কন্যাসন্তানে প্রবেশ করবে। কেননা, এটি সেক্স-লিংকড জিন। কিন্তু প্রচ্ছন্ন এই সেক্স-লিংকড জিনটি কেবলমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে। যেহেতু রীতা স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন তাই রীতার কন্যা সন্তানও স্বভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হবে। কিন্তু তার কন্যাসন্তান বর্ণান্ধ রোগের বাহক হবে এবং কন্যা সন্তানগুলো পিতা থেকে প্রাপ্ত বর্ণান্ধ জিনটি বহন করবে বলে এরা বর্ণান্ধতার বাহক হবে। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্ণান্ধতার বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।