ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন শত শত মাইক্রোবাস। মহাসড়কের জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত যাত্রীবাহী এমন লক্কড়ঝক্কড় মাইক্রোবাসের দেখা মিলছে। যত্রতত্র এসব গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে প্রায়সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় অল্প দূরত্বের যাতায়াতে দুর্ভোগ নিরসনে লোকাল বাস চালু করার দাবি জানিয়েছেন মহাসড়ক লাগোয়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নারী-পুরুষ যাত্রীরা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ২২টি মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ তিন চাকার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার, ময়নামতি সেনানিবাস ফটক, আলেখারচর, নন্দনপুর, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চালকেরা মাইক্রোবাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে রেখেছেন। বেশির ভাগ মাইক্রোবাসই ফিটনেসবিহীন।
কোনোটার দরজা ঠিক নেই, জানালা ভাঙা। ভেতরে নড়বড়ে আসনে তিন জনের স্থলে চার জন বসানো হচ্ছে। কোনো ধরনের সংকেত ছাড়াই এগুলো মহাসড়কের যেখানে-সেখানে থেমে যাচ্ছে এবং অনেকটা টানাহ্যাঁচড়া করে যাত্রী তুলে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চান্দিনা মহিলা কলেজের এক ছাত্রী মাইক্রোবাসে করে গন্তব্যে যাওয়ার পথে দেবিদ্বারের বরকামতা এলাকায় দুর্ঘটনায় মারা যান। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম এবং নিমসার জুনাব আলী কলেজসহ মহাসড়ক লাগোয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্তত আট জন শিক্ষক বলেন, ‘অল্প দূরত্বের গন্তব্য হওয়ার কারণে বেশি বিপাকে আছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিকল্প কোনো বাহন না থাকায় মাইক্রোবাসেই তাদেরকে যাতায়াত করতে হয়। এতে কষ্টের পাশাপাশি ভাড়াও বেশি। তাই মহাসড়কে লোকাল বাস চালু করা হলে ভোগান্তি কমে আসবে।’
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার বাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর হঠাত্ করেই মাইক্রোবাস নামানো হয়। এগুলোর বেশির ভাগেরই ফিটনেস ছিল না। আমরা অভিযান চালিয়ে কিছু মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় এখন ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা কমে আসছে। তবে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও মানুষজন নিরুপায় হয়ে এসব বাহনে করে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করছে।’
