ভূমি প্রশ্নের সমাধান না করে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাজনৈতিকভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সংকট দূর করতে হবে বলে জানান বক্তারা। তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন বনাম পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট— এএলআরডি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অন্ধকারে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভূমি সমস্যার সমাধান, পাহাড়ি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, পাহাড়ে বাঙালিদের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এতে করে যেন পাহাড়িরা তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী চুক্তি করার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু সেই আন্তরিকতা দৃশ্যমান করতে হবে।
বিশেষ সত্তা ও স্বকীয়তাকে সংরক্ষণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, পাহাড়ে কী ধরনের বৈষম্য চলছে তা দেশবাসী জানে না। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যেখানে জনগণের বাক্স্বাধীনতা ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। সেখানে নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। এর অবসান না হলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এ সবই গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা আয়োজকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, চুক্তির বাস্তবায়ন করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটা করা না হলে তার দায় সরকারের ওপর বর্তায়।
ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, শান্তিচুক্তি বিষয়ে রাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে তার সঙ্গে পার্বত্য চুক্তিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নেতা জুমলিয়ান আমলাই এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক কমিটির নেতা গৌতম দেওয়ানও বক্তব্য রাখেন।
