শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে নিয়োগ পেতে চলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিকি আর্থার। বিশ্বকাপের পরপরই তিনি পাকিস্তানের কোচের পদ থেকে অব্যাহতি পান। এরপর থেকে ছিলেন চাকরিশূন্য। ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার জন্য আলোচনা চললেও সেটা ফলপ্রসূ হয়নি।
এর আগে আর্থার দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ ছিলেন। আর আর্থারের শুরুটাও কাকতালীয় ভাবে হচ্ছে তারই হাতে গড়ে তোলা দল পাকিস্তানের বিপক্ষে। শিগগিরই শ্রীলঙ্কা দল পাকিস্তানে যাবে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে।
আগামী ১১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর করাচির জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এই সিরিজ দিয়েই ১০ বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানের মাটিতে।
সর্বশেষ ২০০৯ সালের মার্চে এই শ্রীলঙ্কা দলই পাকিস্তানে টেস্ট খেলেছে। ঐ সফরের ওয়ানডে সিরিজ শেষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টিম বাসে ১২ জন বন্দুকধারী হামলা করে। ছয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আহত হন। ছয়জন পাকিস্তানি পুলিশসহ মোট আট জন সেদিন সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারায়।
সেই ঘটনার জের ধরে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন একদম নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে খেলতে যায়নি বিশ্ব ক্রিকেটের দেশগুলো। সম্প্রতি সীমিত ওভারের ক্রিকেট দেশটিতে আয়োজিত হলে এবারই প্রথম টেস্ট আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
গেল সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে লঙ্কান দল পাকিস্তানে গিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে। ঐ সময়ই এই সিরিজের ব্যাপারে পাকা কথা হয়ে গিয়েছিল দুই পক্ষে। এবার সেই কথাই রাখছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)।
ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, কোচিং স্টাফ দলে সাবেক সহকর্মী গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারকে পাচ্ছেন আর্থার। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার পাচ্ছেন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব। দুজন এর আগে এক সঙ্গে পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেন। বোলিং কোচ হবেন ডেভিড শাকের ও ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডরমেট। সবার সঙ্গেই দুই বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে এসএলসি। চান্দিকা হাতুরুসিংহকে অনেকদিন আগেই প্রধান কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও এখনো তিনি বোর্ডের চুক্তিতে আছেন।
জানিয়ে রাখা ভালো, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচদের একজন হলেন আর্থার। ২০০৫ থেকে ২০১০ অবধি তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং করান। দলটি তার অধীনেই টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠে। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে গিয়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে জিতে আসে টেস্ট সিরিজ।
আর্থার পাকিস্তানকেও টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে তুলেছিলেন। তার অধীনেই টানা ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ে পাকিস্তান। ওঠে যায় র্যাংকিংয়ের শীর্ষে। শুধু তাই নয়, আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করেও ইংল্যান্ডের মাটিতে আর্থার পাকিস্তানকে উপহার দেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা।
