বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে সব ধরনের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ১৫তম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, এত দিন ধরে একাডেমিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে যে অসহযোগিতা করা হয়েছিল তার সমাপ্তি হলো। এখন থেকে আমরা প্রশাসনকে একাডেমিক কাজে সহায়তা করব। আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া টার্ম পরীক্ষায় নেব। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে সায়েম বলেন, ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ জানিয়ে অঙ্গীকার নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একটি সুস্থ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের লক্ষ্যে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অঙ্গীকারনামা দিতে প্রস্তুত। সায়েম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কোনো অপশক্তি যাতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে এবং একই সঙ্গে বুয়েট প্রশাসন যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, সে জন্যই মূলত মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন থেকে সরে আসা হয়। তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে শুরু থেকেই সচেষ্ট ছিলেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্দোলনে শক্তি জোগানোয় বুয়েটের সব শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ যারা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন শুরু থেকেই এ ক্যাম্পাসের সব সাধারণ শিক্ষার্থীর আন্দোলন ছিল। এ আন্দোলনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার উপস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, কারো একক সিদ্ধান্তে কোনো কাজ করা হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বহিরাগত অপশক্তির প্রভাব দমনের জন্য আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেষ্ট ছিলাম।
