‘অসত্ পথে থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সত্ পথে থেকে নুন-ভাত খাওয়া অনেক ভালো’—প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চারণে আপনি কতটা অনুপ্রাণিত? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল ও টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।
আগে দেখেছি মানুষ মেধা ও শক্তি-সামর্থ্য খাটিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে জীবনে উন্নতি লাভ করত। তাতে ছিল আত্মতৃপ্তি, সুখশান্তি, অনাবিল আনন্দ ও সম্মান। কিছু মানুষ আছে তারা পরিশ্রম করে জীবনে উন্নতি লাভ করতে চায় না। তারা বিনা পরিশ্রমে খুব অল্প সময়ে ধনী হতে চায়। যার কারণে তারা প্রতারণা, চুরি-ডাকাতি, অর্থ আত্মসাত্, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মানি লন্ডারিং, অবৈধ দখল ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।
তারা অবৈধ অর্থের মালিক হলেও তাদের মনে শান্তি নেই, পরিবারে সুখ নেই, বিরিয়ানি ও দামি খাবার খেয়েও শান্তি পায় না। ওষুধ খেয়ে তাদের ঘুমাতে হয়।
মোহাম্মদ ইসলাম,
পায়ের খোলা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
সততার মূল্য অনেক। যার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। অসত্ পথে থেকে যতই ভালো ভালো খাবার ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করি না কেন তাতে সুখও নেই, শান্তিও নেই। কষ্ট করে উপার্জন করার মধ্যে আনন্দটাই অন্যরকম। কষ্টের সাফল্যের মধ্যেও আনন্দের চোখে পানি আসে। সেটা সুখের বার্তা। প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটির মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই অনুপ্রাণিত হওয়া দরকার।
মো. হানিফ মিয়া,
মনেশ্বর লেন, ঢাকা।
সত্পথে জীবনযাপন করার পরিতৃপ্তি ভাষায় ব্যক্ত করে শেষ করা যাবে না। ইহা চিরস্থায়ী ও অনন্ত। কিন্তু অসত্পথের উপার্জন বেশিক্ষণ থাকে না। ইহা ক্ষণস্থায়ী এবং ঠুনকো। সাময়িকভাবে পরিতৃপ্তি আসলেও মন খুবই দুর্বল থাকে। যেমন চোরের মন পুলিশ পুলিশ। চোর দেখলেই ভিত হয়ে পড়ে। কাজেই নিজে সত্ভাবে জীবনযাপন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে, অপরকে কোনোভাবেই সেই বিষয়ে আহ্বান করা উচিত নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই উক্তিটির পথে থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সত্ভাবে নুনভাত খাওয়াই ভালো। সেই উক্তিটি যথার্থই হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু),
হাউজিং এস্টেট, ২ নম্বর গেইট,
রাজশাহী-৬২০২।
নিজে সত্ থাকা, সততাকে উত্সাহিত করা, মেধা ও দক্ষতাকে উত্সাহিত করে রাখা এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। অসত্ পথে থেকে বিরিয়ানিসহ অন্যান্য নামিদামি খাবার খাওয়ার চেয়ে সত্ পথে থেকে ডাল-ভাত-নুন খাওয়া অবশ্যই ভালো। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমি সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করছি। তাই আমরা মনে করি, সততার সঙ্গে, ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে ও আদর্শের সঙ্গে আমরা নিজের জীবন গঠন করব।
হোসনে আরা করিম নীলা
হাজারীবাগ, ঢাকা।
সততার সঙ্গে জীবনযাপন করা মানেই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ একটি সাদামাটা জীবন। যে জীবনের সঙ্গে মিশে আছে আদর্শ, ন্যায় পরায়ণতা, নিষ্ঠা ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়গুলো। দেশে যে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে তার মারাত্মক বিঘ্নিত হবে তাই দুর্নীতির মূলোত্পাটন এখন সময়ের দাবি। সততার কোনো বিকল্প নেই।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
স্টেডিয়াম সড়ক, সদর
ফেনী, নোয়াখালী।
অসত্ পথে থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সত্ পথে থেকে নূন-ভাত খাওয়া অনেক ভালো। প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চারণের সঙ্গে আমাদের অবশ্যই একমত হওয়া উচিত। আমরা তার কথায় অনুপ্রাণিত। আমরা সত্যিকার অর্থে যদি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী জীবনযাপন করি তাহলে আমাদের এই অসত্ উপার্জন, অসত্ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই আসতে পারে না।
ফরিদ উদ্দিন
নিউ সার্কুলার রোড
মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ, ঢাকা।
সততার মূল্যের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। যার মধ্যে সততা আছে সে অবশ্যই একজন সম্পদশালী। কারণ তার মধ্যে সততা আছে তাকে কেউই অর্থ দিয়ে ক্রয় করতে পারবে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারণে অবশ্যই সবারই অনুপ্রাণিত হওয়া দরকার।
আইরিন সুলতানা মনজু
ধুপখুল, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম।
প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে আমি একমত। সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বহুল প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমিও দেশবাসীকে এই বিষয়ে অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
মোহাম্মদ আবদুল মালেক
সহকারী বেতার প্রকৌশলী
বাংলাদেশ বেতার, সাভার।
যদি বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের পরও মানুষের মনে তৃপ্তি না আসে, তাহলে বুঝতে হবে যে তার মনে লোভ বাসা বেঁধেছে, অসততা তাকে ঘিরে ধরেছে। অসত্ ব্যক্তি নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। হাতে যা আছে তাতে সুখী না থেকে অন্যায়ভাবে আরো বেশি কিছু পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। অসত্ দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির জীবনে অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনো শান্তি আসতে পারে না। লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু মানুষ ধর্ম-কর্ম ভুলে নিজের জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনে। অসততা মানুষকে অন্ধ করে তার বিবেক বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে তাকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ভালো মন্দ, পাপ, পুণ্য বিচারের ক্ষমতা নির্মূল করে ফেলে। তাই লোভ মানুষের চরম শত্রু, জীবনের বিনাশ সাধনই এর কাজ।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
সততাই সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা এই কথা সর্বজন স্বীকৃত ও শ্বাশত সত্য। কিন্তু বাস্তব জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতে জর্জরিত মানুষ জীবন চলার পথে সততার প্রশ্নে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলেও শেষাবধি সততাই যে সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা তা বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নেয়। সত্ভাবে চলার পথ অত্যন্ত বন্ধুর ও কন্টকাকীর্ণ। সত্ পথে চলার জন্য মানুষকে চরম ধৈর্য ও কঠোর বাস্তবতার সাথে নিজের স্বকীয়তা বজার রেখে চলতে হয়। ফলে মানুষ বার বার হোঁচট খায় সত্য কিন্তু শেষাবধি সততারই জয় হয়। অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার শতকরা ৯৫ ভাগ লোক সত্ বিধায় তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উন্নয়ন আকাশচুম্বী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেও সত্ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সুপরিচিত। আমরা তার কথায় শতভাগ অনুপ্রাণিত।
(ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী)
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা নিতান্তই প্রচলিত কথা। যার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের মানুষ স্বনিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন নেই, ব্যক্তি শুধু একটি টুলস। রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য সুনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকা চাই। বর্তমানে আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ যার যত ফাঁকফোকর আছে তা বাস্তবায়ন করে টাকা বানানোর পেছনে ছুটছে। সেখানে এই প্রচলিত আপ্তবাক্য অর্থহীন।
দুলাল চন্দ্র মজুমদার
সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল।
সত্, সত্য ও সততা। বাংলা ভাষার এই শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই সুপরিচিত। কারণ এ শব্দগুলোর মধ্যে যে মহত্ চারিত্রিক মাধুর্য লুকিয়ে আছে, তা সবার কাছেই অতিমূল্যবান। এই গুণগুলো যাদের আছে, তারা যে দেশের বা যে সমাজের বা যে ভাষার কিংবা যে দলের লোকই হোন না কেন, তারা সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। অবশ্য বর্তমান আধুনিক বা ডিজিটাল যুগে মানুষ সত্ আর অসত্-এর যেমন ধার ধারে না, শুধু স্বার্থ উদ্ধার হলেই হলো! এটা দেখা যায় আমাদের বাংলাদেশেও। মানুষ হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ববোধ, খোদাভীতি, ন্যায়পরায়ণতা এবং অপরের প্রতি ইনসাফ থাকা উচিত, সেটা তো বহু আগেই ‘ডাইনোসরের মতো’ বিলুপ্ত হয়ে গেছে!
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
সততার মূল্য কোনো মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য নয়, ইহার মূল্য অপরিসীম। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সততা নিয়ে যে উক্তি করেছেন, তা আসলেই প্রশংসনীয় এবং প্রত্যেককে এ নীতি মানা উচিত বলে মনে করি। পরিবারের কিছু পারিবারিক নীতি থাকে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সবাই সেই সব নীতি মেনে চলে, তেমনই দেশের সরকারপ্রধান সততার যে উক্তি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, তা আসলেই জনগণের জন্য অনুপ্রেরণার।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর।
অসত্ভাবে উপার্জনের মাধ্যমে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সত্ উপার্জনের মাধ্যমে লবণ-ভাত খাওয়া ভালো—প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তিটি আমাদের ইসলাম ধর্মের মর্মবাণীর একটি সারাংশ। ইসলামের সত্ উপার্জনের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণকে হালাল হিসেবে অভিহিত করেছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই নাসির উদ্দিন সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও টুপি সেলাই করে নিজের সংসার চালাতেন। শুধু নাসির উদ্দিনই নয়, ইসলামের বহু সাধক তাদের বিত্ত-বৈভব ত্যাগ করে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধুও নিজেও সরকারি ভবনে না থেকে নিজের ভবনে থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই কথার মাধ্যমে সাধারণ জনসাধারণের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা আছেন তাদেরও স্মরণ করে দিয়েছেন সত্ভাবে জীবনযাপন করাই সর্বোত্তম।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে— ‘সত্ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসত্ সঙ্গে সর্বনাশ’। সততার কাছ থেকে সত্যি আজ আমরা অনেক দূরে রয়েছি। এক শ্রেণির সমাজের মানুষ ঘুষ, দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে, সন্ত্রাস করে, লোকজনের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিত্ত-বৈভব তৈরি করে বিলাসী জীবন যাপন করছে। আর আরেক শ্রেণির মানুষ মধ্যবিত্ত ও গরিব তারা অনেক কষ্টে, সত্ভাবে থেকে জীবন যাপন করছে। সুতরাং সত্ ও অসত্ পথের দুই শ্রেণির মধ্যে দৃশ্যমান সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটি কোনো অংশে ভুল নয়।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুলা)
আরামপুর, ঝিনাইদহ।
অসত্ পথে থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সত্ পথে থেকে লবণ-ভাত খাওয়া অনেক ভালো’—প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একেবারেই একমত। সত্ জীবনযাপন সত্যিই অনেক আনন্দময়। নির্ভেজাল জীবন, তৃপ্তিময় সময় অতিবাহিত করা, একেবারেই সুষমামণ্ডিত ও শান্তিময় জীবন। এটাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।
মো. শহীদুল ইসলাম
মধ্যপাড়া, বগুড়া।
সততার মূল্য আমরা অনেকেই ভুলতে বসেছি। ভুললে চলবে না এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই সততার বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। সততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটি একেবারেই সময়োপযোগী বক্তব্য বটে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাই, শুদ্ধি অভিযান চলুক। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছে। সেসব বিষয়গুলোকে ভালোভাবে দেখতে হবে।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা।
