বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অংক) না আসলে কোনো ব্যবসা সফল হবে না। প্রকৃত ব্যবসা করা যাবে না। অন্য কিছু করা যায় কিনা আমি জানি না। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে ব্যাংক মালিকরা নানা রকম সুবিধা নিয়েও সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট করেনি।
গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সুদহার না কমার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ১১ মাস পরে এসে বলছেন যে, বাংলাদেশে সুদের হার এত বেশি যে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না। ১১ মাস উনি কী হাইবারনেশনে (ঘুমে) ছিলেন? আমাদের প্রশ্ন এই ১১ মাস উনি কী করলেন ব্যাংকিং সেক্টরের রিস্ট্রাকচারিংয়ের ব্যাপারে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, যখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই উদ্বেগের কথাগুলো উঠে আসছে, তখনই উনি এক বক্তব্য দিয়ে হয়তো আবার পরবর্তী ছয়মাস হাইবারনেশনে চলে যাবেন। এগুলো দুঃখজনক। আমরা মনে করি এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আট নয় মাস আগে আমি নিজে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছি ১২-১৪ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব না। আপনারা কর্মসংস্থান চান, বাণিজ্যের প্রসার চান। এত ইন্টারেস্ট দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী সাকসেস হতে পারবে না। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ঋণ খেলাপি বাড়বে। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ব্যাংকারদের অনেক রকম সুবিধা দেওয়া হয়েছে।’ ব্যাংকের মালিকরা সুবিধা নিলেও সুদহার কমায়নি বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ব্যাংক মালিকরা সব রকম সুবিধা নিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার বললেন, কাজের কাজ কিছুই হলো না। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীরা যাবে কোথায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সুদহার কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রী অনেকবার বলেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো প্রাইভেট ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনে নাই। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকারদের নিয়ে বসলেন। জানুয়ারি থেকে এটা (সুদের হার কমবে) হবে। দেখি আমাদের তো আশা করা ছাড়া আর উপায় নাই।
সিরামিক এক্সপোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিত থাকাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন।
