জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটির ভোট

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৫

মধ্য জানুয়ারিতে ঢাকার দুই (উত্তর-দক্ষিণ) সিটির ভোটের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে সময় পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের প্রথমদিকে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

দুই সিটির নির্বাচনের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে দুই সিটির ভোট করার ব্যাপারে কমিশনের সিদ্ধান্ত আছে। তবে এখনো তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। কমিশন বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ১১ ডিসেম্বর কমিশন সভার          পরবর্তী সভায় দুই সিটির তপশিল চূড়ান্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 ভোটের সময় পেছানোর হিসাবে ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়ার জন্য ভোটের সময় কিছুটা পেছানো হয়। কেননা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচালনায় সহায়তা করবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত টেকনিক্যাল টিম।

দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬০০টির মতো। এক্ষেত্রে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ইভিএম পরিচালনা টিমের সদস্য কাজ করলেও প্রয়োজন ২ হাজার ৬০০ লোকবল। নির্বাচন কমিশনের এই লোকবল নেই। মহড়ার সময় আবার সশস্ত্র বাহিনীও এই লোকবল মহড়া চলাকালীন দেবে না। এ অবস্থায় জানুয়ারির শেষ সময় ছাড়া ভাবার উপায় নেই কমিশনের। অন্যথায় মার্চের দিকে যেতে হবে।

সম্প্রতি দুই সিটির সম্প্র্রসারিত ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ ৪৮ জন কাউন্সিলর জানুয়ারিতে নির্বাচন না করতে কমিশনে আবেদন করেছিলেন। এটি নিয়ে ভাবা হয়েছিল নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে আইনি কোনো ধরনের জটিলতা নেই। তাদের আবেদন কমিশনে উপস্থাপন করেছিলাম। কমিশন জানিয়েছে, পরিষদ ভেঙে গেলে নির্বাচিতদের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। পরিষদের মেয়াদ শেষের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোটের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর নির্বাচন উপযোগী হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আর ১৮ নভেম্বর নির্বাচন ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে। স্থানীয় সরকার থেকে চিঠি পাওয়ার পর ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে কমিশন। প্রথমত কমিশনের চিন্তা ছিল ডিসেম্বরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে ঢাকার দুই সিটির তপশিল ঘোষণার। মধ্য জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন শেষ করার। কিন্তু নানা দিক বিবেচনা করে এখন ২৩, ২৬ ও ৩০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৪৫ দিন হাতে রেখে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে কমিশন। বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট করা হবে।

খসড়া ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত : ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, ইতিমধ্যে দুই সিটির ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ভোটার তালিকাও। আর ইসি সচিবালয় দুই সিটিতে সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরির কাজ শুরু : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে অর্ধলাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রাথমিক তালিকা করার কাজে হাত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের এই প্রাথমিক প্যানেল তৈরির জন্য গত মঙ্গলবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার জন। আর দক্ষিণ সিটিতে ভোটার রয়েছেন ২৩ লাখ ৬৭ হাজার জন।