‘ছয় হাজার টাকার চুক্তিতে আমরা দুই জন রাতে ঐ নারীদের বাসায় ছিলাম। সকালে বের হওয়ার সময় আমাদের কাছে অত টাকা ছিল না। সাড়ে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তাতে তারা রাজি হচ্ছিলেন না। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রথমে সুমি আক্তার (২০) এবং পরে রহিমা বেগমকে (৬০) গলা টিপে হত্যা করি।’ গ্রেফতারের পর নির্মাণশ্রমিক ইউসুফ খান ও রমজান আলী এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ইউসুফ ও রমজান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত মঙ্গলবার রাতে মিরপুর-২-এর ‘এ’ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে রহিমা ও সুমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ বাসায় রহিমা ভাড়া থাকতেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। হত্যার ঘটনায় বুধবার নিহত রহিমার মেয়ে রাশেদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মিরপুর থানায় মামলা করেন। এই মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় ইউসুফ ও রমজানকে গ্রেফতার করে ডিবি।
গ্রেফতারের ঘটনায় গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির কর্তারা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, জোড়া খুনের ঘটনাটি ডিবির পশ্চিম বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পারেন, নিহত রহিমার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। অপিরিচিত নারী-পুরুষের যাতায়াত ছিল সেখানে। গ্রেফতার হওয়া দুজন ঘটনার রাতে ওই বাসায় অসামাজিক কাজ করতে যান। রহিমার সঙ্গে টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয় তাদের। এক পর্যায়ে একজন কক্ষের মধ্যে আরেকজন বারান্দায় রাত যাপন করেন। বাসার প্রধান গেটে তালা মেরে রহিমা নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রহিমার লোকজন তাদের মারধর করতে পারে—এই আশঙ্কায় তারা প্রথমে সুমিকে গলা টিপে হত্যা করেন। বাসার গেটে তালা লাগানোর কারণে তারা বের হতে পারেননি। পরে রহিমাকে ডেকে তোলেন। রহিমা কক্ষের দরজা খুললে তাকেও গলা টিপে হত্যা করেন। খুনের পর তারা মগবাজারে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাটে গেলে সেখান থেকে গ্রেফতার হন।
