মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের অদূরে কলেজ রোড পেরিয়ে দীর্ঘকাল ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত ভাড়াউড়া বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে কোনো পরিচয় ফলক বা শহিদদের নামের কোনো ফলক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অজান্তে এই বধ্যভূমিটিকে শহিদ মিনার বলে প্রচার ও প্রকাশ করে থাকেন।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যুদ্ধের বাংকার বানানোর কথা বলে চা বাগানের পুরুষ কর্মীদের সংলগ্ন গাঙপাড়ে ডেকে আনে। পরে লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
গবেষক তাজুল মোহাম্মদ রচিত সিলেটে গণহত্যা নামক বইয়ে প্রকাশ করা হয় ভাড়াউড়া চা বাগানে গণহত্যার ইতিকথা। বাগানের বাসিন্দা হোছনী হাজরা, চিনিলাল হাজরা, গুরা হাজরা, কৃষ্ণচরণ হাজরা, মহারাজ হাজরা, নুনুলাল হাজরা, মংগুরা হাজরা, কুমারচান্দ তরিয়া, সম মাঝি, নকুলা হাজরা, কালাচান্দ ঘাটুয়ার, সুখনন্দন রিকিয়াশন, ইন্দ্র ভুঁইয়া, ফাগু হাজরা, রামলাল হাজরা, শিব মুড়া, চৈহিত ভুঁইয়া, আগুন ভুঁইয়া, বকুই বেলি, রাজকুমার মাল, রসশাল মাল, ফেরুয়া গৌড়, রামচরণ গৌড়, জয়দেও কাহার, সাঙ্গা কুর্মী, চুমি হাজরা, অমৃতা হাজরা, ক্ষুদিরাম হাজরা, বীরবলী হাজরা, সংরা তুরিয়া, হরকু হাজরা, রামছরুক হাজরাসহ নাম না জানা আরো অনেকেই ভড়াউড়ার গণহত্যায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে তথ্য জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা পরাগ বারই ও প্রবীণ বাসিন্দা সরোজ ভট্টাচার্য্য জানান, মুক্তিযুদ্ধকালে শ্রীমঙ্গলে প্রথম গণহত্যা শুরু হয় ভাড়াউড়া চা বাগানে। পরে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গণহত্যা চলতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাই শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া বধ্যভূমিটির নাম অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে এই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ করার জন্য কালীঘাট ইউনিয়ন অফিসের অর্থায়নে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি বধ্যভূমিটি। এখনো পর্যন্ত নামফলক লাগানো হয়নি স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে।
এ ব্যাপারে উপজেলার ৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রানেশ গোয়ালা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে খুব শিগগিরই বধ্যভূমিটির গায়ে নামফলক বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
