বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মোটামুটি উজ্জ্বল পারফরমারদের একজন মোহাম্মদ মিঠুন। এ মৌসুমের আগ পর্যন্ত ৬৯ ম্যাচে ১১৭১ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের নব সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। আরেকটা বিপিএল দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই সময়ে মিঠুন বলছেন, তার লক্ষ্য নিজে আরো ভালো পারফরম করে দলকে ঠিকমতো সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া।
মিঠুন এবার খেলবেন সিলেট থান্ডার্সের হয়ে। গতকাল নিজের লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন, যত বেশি সম্ভব রান করাটাই তার লক্ষ্য। কারণ, বেশি রান করলে দলেরই উপকার, ‘অবশ্যই ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা করা, যত বেশি রান করতে পারি। যেন আমার দলকে সাপোর্ট করতে পারি। আমার কাছ থেকে যে প্রত্যাশা দলের সেটা যেন পূরণ করতে পারি।’
সিলেট বরাবরের মতোই খুব শক্তিশালী দল করতে পারেনি। দেশি-বিদেশি খুব বড়ো তারকা নেই এই দলে। মিঠুন মনে করছেন, এই দল নিয়ে ভালো করাটাই তাদের আসল চ্যালেঞ্জ, ‘আসলে এটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। খাতাকলমে যারা চ্যাম্পিয়ন দল ওদের জন্য কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটা একটু কম। ওদের বড়ো বড়ো স্টার থাকে। ওই দলের চাপটাও কিন্তু বেশি থাকে। আমরা যেহেতু বড়ো কোনো সুপার স্টার নিয়ে খেলছি না, সবাই এখানে সমান। সবাই চাইবে নিজেদের সেরাটা দিতে। আমার মনে মোমেন্টাম যদি প্রথম দিকে ধরতে পারি তাহলে এই দল নিয়েও ভালো কিছু করা সম্ভব।’
সিলেটে বিদেশি খুব বড়ো কোনো নাম নেই। এটাকে মিঠুন ইতিবাচকভাবে দেখতে চাইছেন। তার মতে, এটা স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য বড়ো একটা সুযোগ। তারা চাইলে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে, ‘এটা অবশ্যই স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য ভালো একটি সুযোগ। অন্যবার দেখেন প্রতি দলে কিন্তু বড়ো বড়ো স্টার থাকে। যাদের ভিড়ে স্থানীয়রা হারিয়ে যায়। এবার যেহেতু স্থানীয় প্লেয়ারদের দায়িত্ব বেশি এবং এটা কাজে লাগানোরও আমাদের জন্য বড়ো সুযোগ।’
শুধু বিপিএলে সিলেটের দৃষ্টি থেকে নয়, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবেও চেয়ে আছেন মিঠুন। তার মতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই বিপিএলটা জাতীয় দলের জন্য খুব উপকারী হবে, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক কাজে দেবে। কারণ আমরা কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট খুব কম খেলি। বিপিএল ছাড়া আর ঐরকম খেলতে পারি না। শেষ বছর প্রিমিয়ার লিগের আগে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়েছে। মূলত যেখানেই খেলি না কেন, সব কিছুর মূলে লক্ষ্য থাকে দেশের হয়ে সার্ভিস দেয়া। বাংলাদেশ দলকে আরো কতটুকু এগিয়ে নেয়া যায়। সব সময় চেষ্টা থাকে সেটাই। এ রকম একটা টুর্নামেন্ট এবং এরপর আমাদের অনেকগুলো সিরিজ আছে। আমি যদি এখানে সফলভাবে শেষ করতে পারি, তাহলে এই আত্মবিশ্বাসটা কাজে দেবে।’
