প্লাস্টিক পরিত্যাগ করুন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৬

ছোটোবেলায় ঠাকুরদাদার হাত ধরে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি একধরনের হাতা নিয়ে বাজারে যেতাম। সুতলির বস্তা বা চটের বস্তা কেটে তৈরি থলেও ছিল। তারপর দিনে দিনে বাজারের থলে হিসেবে প্লাস্টিকের তৈরি পলিথিনের ব্যাগ এমন সহজ হয়ে গেল, যা মানুষের কর্মব্যস্ততার যুগে একেবারে মানানসই ভূমিকা পালন করে। এতে গৃহিণীরাও হাফ ছেড়ে বাঁচল। কেননা, বাজারে যাওয়ার সময় আর কর্তাদের হাঁকডাক শুনতে হয় না—’কইগো, বাজারের ব্যাগটা দাও।’ সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে এবং সহজে নষ্ট না হওয়ায় দ্রব্যটি খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এটি আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, যখন জানতে পারি, দ্রব্যটি জীবজগত্ ও উদ্ভিদজগতের মহাক্ষতি সাধন করে চলেছে। প্রতিদিন জঞ্জাল হিসেবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের দ্রব্য নালা-নর্দমায় পড়ে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে সামান্য বৃষ্টি হলেই নোংরা পানি জমে দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।

প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ, যা সহজে পচে না। ক্লোরিনযুক্ত প্লাস্টিক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে ভূগর্ভস্থ পানি ও ভূ-পৃষ্ঠিয় পানির সঙ্গে মিশে গিয়ে আমাদের খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ে, যাতে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আবার সমুদ্রের পানিতে মিশে সামুদ্রিক প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে সমুদ্র দূষণে ও এসব বর্জ্য খাবার হিসেবে গ্রহণ করায় বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে জলজ প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে। গত ৩ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়েছে—স্পেনের মাদ্রিদে জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে সমুদ্রের দূষণের কবলে পড়ে মারা যায় এক বিশাল তিমি, যা স্কটিশ আইল্যান্ডের হ্যারিসে ভেসে ওঠে ও যার পেট ছিঁড়ে পাওয়া যায় ১০০ কেজি আবর্জনা। যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জাল, দড়ি, ব্যাগ ও প্লাস্টিক কাপ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ পরিমাণ ময়লা পেটে থাকা ও সমুদ্রের দূষণের কারণে তিমিটি মারা যায়। এছাড়া, দূষণের কবলে পড়ে প্ল্যাঙ্কটন নষ্ট হওয়ায় খাদ্যাভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে খাদ্যনালিকা বন্ধ হয়ে প্রচুর কচ্ছপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে বলে দাবি করেন সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহারে বেড়ে চলা দূষণ বিশ্ব উষ্ণায়ণেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই প্লাস্টিকের দূষণ কমাতে ও রোধে সারা বিশ্বের পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বারবার দাবি তুলছেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সুতরাং স্থলজ-জলজ জীবজগত্ ও উদ্ভিদজগত্ রক্ষায় প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করা ও বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রচারণা চালানোর উদ্যেগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। দিনাজপুরে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে রিসাইক্লিংয়ের জন্য প্রক্রিয়াজাত করায় পরিবেশদূষণ কম। এতে অসংখ্য লোকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। পরিবেশবাদীরাও এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সরকারিভাবে এমন উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে বিপন্নতা অনেকটা রোধ করা যাবে।

চট্টগ্রাম