নেই মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার উদ্যোগহীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলামোটর-শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড। গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না নাগরিকরা। এত বড়ো এলাকায় নেই কোনো খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার। নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো উদ্যোগ। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলসহ হাতিরপুল ও হাবিবুল্লাহ রোডে সৃষ্টি হয় যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ড জুড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত রয়েছে হাতিরপুল কাঁচা বাজার। মশা নিয়ন্ত্রণে নেই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। সুয়্যারেজের অব্যবস্থাপনায় প্রায়ই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বাংলামোটর জহুরা মার্কেট গলি রাস্তাসহ বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা। ফুলার রোডে রয়েছে নিরাপত্তার অভাব।

এদিকে ২০২০ সালে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেলে তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে মাঠে নামবেন।

ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হামিদ খান জানিয়েছেন তার সময়ে উন্নয়ন ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হয়েই জনসাধারণের জন্য কাউন্সিলর অফিস উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। যখন তখন যে কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাদের সমস্যা সমাধান করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া পান্থকুঞ্জ মাঠের কাজ চলছে। একটি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছেন। অন্য আরেকটি টিএসসির পাশে করার জন্য ডিজাইনও প্রস্তুত করা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। কমিউনিটি সেন্টার না থাকলেও এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছেন খুব শিগগিরই এর জন্য অনুমোদন পাবেন। শাহবাগে একটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। হাতিরপুল কাঁচা বাজার পাকা করার ব্যবস্থাও চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছেন। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে। তিনি আরো বলেন, তিনি যদি সামনের নির্বাচনে মনোনয়ন পান তাহলে পরীবাগ থেকে হাবিবুল্লাহ প্লাজার সড়কটিকে ২২ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শাকুরায় ১২তলা একটি ভবন নির্মাণ করবেন। আর সব সময় চাঁদাবাজি ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কাজ করবেন।

অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তিনি গতবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শুধু দলের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এবার যদি তিনি মনোনয়ন পান, তাহলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলবেন। বিশেষ করে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করবেন। ছিনতাই রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ  নেবন। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করবেন।

থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. মোশারফ হোসেন ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা জানিয়েছেন, দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে তারা নির্বাচিত হলে একটি আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও থানার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ মিন্টু। তিনি জানিয়েছেন, তিনিও দল থেকে মনোনয়ন পেলে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করবেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানির সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে জনগণের পাশে থাকবেন।