এইডস :৫০ ভাগই জানেন না তারা আক্রান্ত

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৫

দেশে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ আক্রান্তদের ৫০ ভাগই জানেন না যে, তারা এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে রয়েছে সচেতনতার অভাব। সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম পরিচালিত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ২০১৯ সালে এইডসে নতুন করে আক্রান্ত হয় ৯১৯ জন। এর মধ্যে শতকরা ৭৪ ভাগ পুরুষ, ২৫ ভাগ নারী ও ১ ভাগ ট্রান্সজেন্ডার। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এরই মধ্যে মারা গেছেন ১৭০ জন। আক্রান্তদের একটি বড়ো অংশ অভিবাসী             কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য। বিবাহিতদের মধ্যে এইডস রোগীর সংখ্যা বেশি, সংখ্যায় যা ৫৮৭ জন। দেশে আনুমানিক এইডস রোগী ১৪ হাজার।

অভিবাসী শ্রমিক হয়ে ২০১৪ বিদেশে গিয়েছিলেন (ছদ্মনাম) সালাম মিয়া। তিনি দেশে ফিরে আসেন ২০১৭ সালে। পরে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়ে মারা যায়। এরপর চিকিত্সকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারেন সালাম মিয়া ও তার স্ত্রী দুই জনেই এইচআইভি পজেটিভ। সালাম মিয়া বলেন, এই রোগের নাম আগে আমরা শুনিনি। এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমার রোগে এখন স্ত্রীও আক্রান্ত।

দেশের বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অভিবাসী শ্রমিক হয়ে কাজ করছেন বিদেশে। অজ্ঞতা আর অসচেতনতার কারণে তাদের একটা অংশ এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই ব্যক্তি দেশে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশার কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের স্ত্রীও।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা বলছেন, আমাদের দেশে এ রোগ নিয়ে সচেতনতার রয়েছে বড়ো অভাব। আক্রান্তদের ৫০ ভাগই জানেন না যে তাদের এই রোগ আছে। আর যারা জানেন তাদের এক তৃতীয়াংশের বেশি চিকিত্সা নেন না। অথচ আক্রান্তদের নিয়মিত ওষুধ সেবন ও রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। তারা বলছেন, ইউএনএইডসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের চেয়ে যৌনকর্মীদের এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকি ২১ ভাগ বেশি। আর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী যৌনকর্মী, পুরুষ যৌনকর্মী ও হিজড়া।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশে এইডস রোগীর হার দশমিক শূন্য এক শতাংশ। সেখানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি এইডস রোগী রয়েছে। এইডস রোগীদের ওষুধ দেওয়ার যে কাভারেজ, তাতেও বাংলাদেশ এগিয়ে। তবে আমরা এতে সন্তুষ্ট না। তিনি বলেন, সচেতনতার প্রয়োজন আছে। আমাদের ১ কোটি মানুষ দেশের বাইরে থাকে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ এইচআইভি ডিটেকশন রেট বাড়ানো। এখন সেটি ৫২ শতাংশ রয়েছে। আমাদের তা শতভাগে আনতে হবে। আক্রান্তদের মধ্যে নারীদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা তিন গুণ। তাই পুরুষদের সচেতন করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলে আমাদের কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে দেশে নতুন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি বছর এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৯১৯ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এরই মধ্যে মারা গেছেন ১৭০ জন। বিবাহিতদের মধ্যে এইডস রোগী ৫৮৭ জন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ১০৫ জন। এছাড়া ১৭৫ জন সিঙ্গেল, ১৭ জন ডিভোর্স, ১০ জন বিধবা ও চার জন ভিন্নমতের। তিনি আরো বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দেশে এইডস আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪২ জন। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে দেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এইচআইভিতে আক্রান্ত প্রথম রোগী মারা যায় ২০০০ সালে। ২০১৮ সালে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন।