তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠন করা নয়, পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা, মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ ও মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন। বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি ছাড়া শুধু বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশিদূর এগিয়ে যাওয়া যাবে না।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব। কিন্তু উন্নত জাতি গঠন করা ভিন্ন কাজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে, এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর চেনা যায় না। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হবে দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ইউরোপে গত ১০০ বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রতি ১০০ বিবাহের মধ্যে ৫০টি ভেঙে যাচ্ছে। তাদের অনেক মেধাবী সন্তান ভালো স্কুলে পড়ে, ভালো শিক্ষা পায়, কিন্তু তারা যখন বড়ো হয় তখন মা-বাবাকে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে দেয়। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে সমাজকে ইউরোপের মতো সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই না।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের পর্যায়ে বাংলাদেশকে পৌঁছাতে হলে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৌশলী যারা আছেন তাদের মেধা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
‘আদালতের প্রতি হুমকি অবমাননার শামিল’
এদিকে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে কে-স্কোয়ার মিলনায়তনে টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রামের যুগপূর্তি অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানির আগেই যদি সর্বোচ্চ আদালত অবমাননার ঘটনা ঘটে, জামিন হলে তারা কতটা অরাজকতা করবে তা সহজেই অনুমেয়। নজীরবিহীন এ ন্যক্কারজনক ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, দেশের সামগ্রিক আইন-আদালতের প্রতি হুমকি ও সর্বোচ্চ আদালতকে অবজ্ঞা-অসম্মানের শামিল। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।
