নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগের মামলা লড়বে মিয়ানমার। এক্ষেত্রে একটি আইনি টিমের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও কার্যত সরকার প্রধান অং সান সু চি। আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন তিনি। তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের স্বার্থ রক্ষায় হেগে যেতে চাইলেও সু চির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফায়দা লোটা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐ মামলায় লড়তে হেগে যাবেন সু চি। তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি আরো ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করা হলেও দেশে তার সমর্থন বাড়বে। দেশটিতে সু চির পক্ষে একের পর এক সমাবেশ হচ্ছে। অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। এ বিষয়ে তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র মিয়ো নিউন্ট রয়টার্সকে বলেন, মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আসলে কী ঘটেছিল, তিনি (সু চি) জাতিসংঘের আদালতে তার ব্যাখ্যা দেবেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপে মিয়ানমারের পরামর্শক রিচার্ড হর্সে বলেন, মিয়ানমারের অধিকাংশ মানুষ রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগকে পক্ষপাতমূলক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে করে। এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে সু চি মনে করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাযজ্ঞের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ঐ অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে গত নভেম্বরে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জোট ওআইসির সমর্থনে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া জাতিসংঘের বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যদিও মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।
