জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার চিন্তা সরকারের

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৯

প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। ইতিমধ্যে ঐ ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান। এদিকে সরকার সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলছেন, এজলাস কক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির সামনে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা একদিকে যেমন গুরুতর আদালত অবমাননা, তেমনি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধ সংঘটন করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এজন্য তাদেরকে আইনগত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

তবে এজলাস কক্ষে যে ঘটনা ঘটেছে সেটাকে হট্টগোল বা বিক্ষোভ বলতে রাজি নয় বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রিপোর্ট না দেওয়ার কারণেই আইনজীবীরা সমস্বরে ‘জাস্টিস’ (বিচার) চেয়ে শ্লোগান দিয়েছে। আর জাস্টিস তো আদালতের কাছেই চাওয়া হয়। এটা হট্টগোল নয়।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ (বিএসএমএমইউ)। হাসপাতালের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়াকে প্রধান করে এই বোর্ড গঠিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, খালেদা জিয়ার কতগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কতগুলো হয়েছে বা হয়নি সেগুলো আজ পর্যালোচনা করব। পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবারের আগেই মেডিক্যাল রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসায় চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ।  জামিন শুনানি দিন এগিয়ে আনার দাবিতে এজলাস কক্ষে বিক্ষোভ ও হট্টগোল করে বিএনপিপন্থি শতাধিক আইনজীবী। এতে সর্বোচ্চ আদালতের বিচার কাজ ব্যহত হয়। এমতাবস্থায় বিএনপির আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতে যা হলো তা নজিরবিহীন। বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।