দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মিটারের রিডিং না দেখেই বেশি বিদ্যুত্ বিল করার বিষয়ে জানতে চাওয়ায় গত মঙ্গলবার পিডিবির কর্মচারীর হাতে মারপিটের শিকার হয়েছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও প্রসূতি মেয়ে। এ বিষয়ে গত বুধবার তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা হলেন পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়ার বিদ্যুত্ কর্মচারী মো. ইসলাম, উত্তর সুজাপুর (ডাড়ারপাড়) এলাকার আব্দুর রহিম ও জিয়াবুর রহমান। আহতরা হলেন উপজেলার পৌর শহরের উত্তর সুজাপুর (ডাড়ারপাড়) এলাকার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের স্ত্রী মোমেনা বেওয়া ও তার চার মাসের সন্তানসম্ভবা মেয়ে জোয়ায়রা বেগম।
মারপিটের শিকার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মোমেনা বেওয়া বলেন, বিদ্যুত্ কর্মচারী ইসলাম প্রতি মাসে গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে বসে গ্রাহকদের মিটার না দেখেই খেয়ালখুশিমতো বিল করে থাকেন। ইতিপূর্বে প্রতি মাসে বিদ্যুত্ বিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হলেও আকস্মিকভাবে গত অক্টোবর মাসে তাদের বিল ১ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়। হঠাত্ এত বেশি বিল কীভাবে হলো তা জানার জন্য মঙ্গলবার বিদ্যুত্ কর্মচারী ইসলামকে ফোন করা হয়। বিষয়টি বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং আগামী মাসগুলোতে এর চেয়েও বেশি বিল করা হবে বলে হুমকি দেন। তিনি বিষয়টি প্রতিবেশী বিদ্যুিমস্ত্রি আব্দুর রহিমকে জানালে রহিম মুঠোফোনে ইসলামকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসলাম প্রথমে মোমেনা বেওয়াকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় তার চার মাসের প্রসূতি মেয়ে জোয়ায়রা এগিয়ে এলে তাকেও চুল ধরে আছাড় দেওয়াসহ পেটে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন ইসলাম। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা তাত্ক্ষণিক মা ও মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
ফলবাড়ী থানার এসআই সেকেন্দর আলী জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়। বুধবার তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মোমেনা বেওয়া।
তবে বিদ্যুত্ কর্মচারী মো. ইসলাম মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও মেয়েকে মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিদু্যুত্ বিল নিয়ে ফোনে গালাগালি করায় ঐ নম্বর তিনি ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখেন। পরে তাকে তার বন্ধু রহিম ডাকলে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিদ্যুত্ বিল নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে মোমেনা বেওয়া ও তার মেয়ে জোয়ায়রা তাকে শার্টের কলার ধরে টানাটানি শুরু করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি তাদের ধাক্কা দিলে দুই জনই পড়ে যান। এতে জোয়ায়রা দেওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ফুলবাড়ী বিদ্যুত্ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল আলী বলেন, ঘটনাটি বিদ্যুত্ কর্মচারী ইসলামের কাছে শুনেছেন। বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপিও দেখতে বলেছেন। ইসলাম বিদ্যুত্ অফিসে মাস্টাররোলে মিটার রিডার হিসেবে কাজ করেন। রংপুরে মিটিংয়ে থাকায় তাত্ক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
