মেয়র আইভীর মামলায় নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:২৫

হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ২২ মাস পর শামীম ওসমান এমপিকে ইন্ধনদাতা হিসাবে উল্লেখ করে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জেলা শহরের সর্বত্র পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

শামীম-আইভীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের হলেও গত ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে উভয়পক্ষকে ডেকে একত্রে কাজ করার নির্দেশ দেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে মাঠে নামে। কিন্তু এরপরও দুই মেরুর মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যু নিয়ে সংঘর্ষের পর কয়েকদিন ছিল নিস্তবদ্ধতা। কিন্তু গত বুধবার একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আবারও ফুটে ওঠে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর মধ্যে সেই পুরোনো দ্বৈরথ। গত দেড় বছর ধরে এই দুই প্রভাবশালী নেতার কণ্ঠে আগের মতো তীব্র বিরোধিতার বক্তব্য আসেনি। যদিও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে আইভী, মন্ত্রী গাজী ও এমপি বাবুসহ ৩৮ জন কেন্দ্রে একটি চিঠি দিয়ে কমিটির বিরোধিতা করেছিলেন। বিপরীতে সোনারগাঁয়ের কমিটিতে নৈতিক পরোক্ষ সমর্থন ছিল শামীম ওসমানের।

এ অবস্থায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে ২০১৮ সালের সংঘর্ষের ঘটনায় শামীম ওসমান এমপির নাম উল্লেখসহ ১০০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। প্রায় দুই বছর পর হকার উচ্ছেদের ঐ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সদর থানায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়। মামলায় অন্য ৯ আসামি হলেন—নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত্ হোসেন সাজনু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ। সিটি আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী হয়ে আইভীর পক্ষে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন।