মিথ্যা অপবাদে গৃহবধূর চুল কেটে দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা!

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪০

মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ সহযোগীদের নিয়ে একই ইউনিয়নের গজাইল গ্রামের দুই সন্তানের জননীর (৩৪) মাথার চুল কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ নভেম্বর রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় ঐ গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে গত ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় ঐ আওয়ামী লীগ নেতা ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—গজাইল গ্রামের মোজাহারের ছেলে মুনসুর (৩৮), বাহের প্রামাণিকের ছেলে আব্দুস সালাম (৪৫), নাসির উদ্দিন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩২)।

এদিকে ঐ রাতেই গৃহবধূর চুল কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, আব্দুর রশিদ তার সহযোগীদের নিয়ে বটি দিয়ে চুল কেটে উল্লাস প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে নির্যাতিতা জানান, গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমি আমার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের খোঁজে বের হই। পথে গজাইল গ্রামের মৃত বেলায়েত সরকারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুর রশিদ ও তার ৪ সহযোগী আমার পথরোধ করে আমাকে আটক করে। এরপর এক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে বলে চিত্কার শুরু করে। এ সময় গ্রামের লোকজন ছুটে এলে তাদের সামনে আমাকে বিবস্ত্র করে মারপিট করে। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। শত শত লোকের সামনে মাছ কাটার বটি দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে উল্লাস করে। এ সময় আমি তাদের কাছে কাকুতি-মিনতি করলেও তাদের মন গলেনি।

নির্যাতিতা আরো জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় এবং পূর্ববিরোধের জের ধরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ সময় তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন। জানা গেছে, ঐ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। লজ্জা ও ঘৃণায় বাড়ি থেকে বের না হয়ে এক রকম নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঐ নারী আরো জানান, এখন মামলা তুলে নিতে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গজাইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে জনসম্মুখে বিবস্ত্র করে গৃহবধূর চুল কেটে দেওয়া আইনত অপরাধ। জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।

এদিকে ঘটনার ১৩ দিনেও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থেকে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, ‘আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ঐ গৃহবধূর চুল আমি কাটিনি। অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সময় গ্রামবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে চুল কেটে দিয়েছে।’ দলীয় নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।